“ডুয়ার্স গান্ধী” কর্মবীর যজ্ঞেশ্বর রায়ক কাংও ফম থোয় নাই।

ডুয়ার্স গান্ধী (Dooars Gandhi) কর্মবীর যজ্ঞেশ্বর রায় প্রধান (Jajneshwar Roy Pradhan) 1307 সনের জৈষ্ঠ্য মাসের 7 তারিখ জন্ম নেন । উমার বাপের নাম মোহনসিং রায় প্রধান আর মাওয়ের নাম পানশ্বরী রায় প্রধান বর্তমান ডোমহনি রেল স্টেশন এর দক্ষিণ পাকে মরুচ বাড়ী গেরামত জন্ম হয়। উমার বাপের নাম ছিল প্রশান্ত রায় প্রধান (Prashanta Roy Pradhan)। আগত এই অঞ্চল ছিল ভুটানের দখলত ছিল, উমার পূর্ব- পুরুষ মরুচবাড়ি (Maruchbari) কোর্ট এর দেওয়ান ( মন্ত্রী স্বরূপ ) ছিল। দেওয়ান এর উপাধি ছিল প্রধান । সেলা হাতে নামের সাথত প্রধান উপাধিটা চলি আইসচে । মোহনসিং রায় (Mohansingha Roy) মেলা দিন অপুত্রক থাকায় জল্পেশের মন্দিরত আশুর্বাদ নেন। তারপরেই উমরা পুত্র সন্তান লাভ করে বুলি বেটার নাম থোন যজ্ঞেশ্বর।

Dooars Gandhi

মোহনসিং হাইস্কুলের হেডমাস্টার শ্রী হরিমোহন বর্মন (Harimohan Barman) মহাশয়ের “মহামানবের কাথা” (Mohamanaber Katha) বইখান থাকি এই গোটায় তথ্যলা তুলি ধরা হৈল্। ময়নাগুড়ি প্রাইমারি স্কুল হাতে বৃত্তি নিয়া নিম্ন প্রাইমারি পাশ করেন তারপর দুই টাকা মাসিক জলপানি পায়া ফালাকাটা মাইনর স্কুল হাতে ক্লাস VI পাশ করেন। এই সমায় তিস্তা নদীর পাগলা বানাৎ মরুচবাড়ির জমিজমা নষ্ট হওয়ায় 1320 সনত মাদারিহাট থানার রাঙ্গালিবাজনা (Rangalibajna) চলি আইসেন। 1322 সনত মাও মরি যাওয়ায় পড়াশোনা বন্ধ হয়া যায়। পরে ইন্দ্রভূষণ চক্রবর্তী মহাশয়ের সাহায্যে আলিপুরদুয়ার হাইস্কুলত ল্যাখাপড়া করেন। এই সমায় মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে সারা ভারতত কংগ্রেসী আন্দোলন উত্তাল হয়া উঠে। 1920 সালত উমরা সক্রিয় ভাবে কংগ্রেসী আন্দোলনত জড়েয়া যান। তারপর বইপড়া বাদ দিয়া পাকাপাকি ভাবে কংগ্রেসত যোগ দেন। এই নিয়া উমার বাপের সাথত ঝগড়াঝাটি হয়। কিন্তুক উমার কাকা দ্বারিকানাথ রায় প্রধান এই ব্যাপারত খুব উৎসাহ দেন। কুমারগ্রাম থানা আক্রমণের সমায় আলিপুরদুয়ারের নলিনী পাকরাশি আর যজ্ঞেশ্বর রায় (Jajneshwar Ray) নেতৃত্ব দেন। সাথত ছিলেন হলদিবাড়ির ভৈব্যনাথ দাস, চেংমারির অবিনাশ দাস, বারোবিশার যোগেন সরকার আর কামাখ্যাগুড়ির দেবেন দাস।পুলিশের হাতত ভালে কয়জন ধরা পরে। কিন্তুক যজ্ঞেশ্বর রায় পুলিশের চখুত ধুলা দিয়া গ্রেফতার অ্যাড়েয়া যান। 1946 সালত জলপাইগুড়ির রাজা প্রসন্নদেব রায়কত (Prasannadeb Raikat) মরি গেইলে শুন্য আসনত জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি নিয়া বিশাল আসনত কংগ্রেসী প্রার্থী হিসাবে এম এল এ নির্বাচিত হন। 1947 সালের 15 আগষ্ট দেশ   স্বাধীন হবার পর যুদ্ধ শ্যাষ, এলা দেশ বানেবার কাজ। 1948 সালত উমার জন্মভিটাত বাপের নামত মোহনসিং হাই স্কুল নির্মান করেন। 1952 সালত ঐ স্কুল ক্লাস X পর্যন্ত সরকারী অনুমোদন  পায়। 1953  সালত পোথোম এই  স্কুল হাতে দুইজন ছাত্র স্কুল ফাইনাল পাশ করে। 1952 সালত পোথোম স্বাধীন ভারতের সংবিধান অনুসারে সাধারন সিটত (General seat) ফালাকাটা সহ মাদারিহাট নির্বাচন কেন্দ্র হাতে এম.এল.এ নির্বাচিত হন। তপসিলী উপজাতি হিসাবে নির্বাচিত হন শ্রী মঙ্গল দাস ভগৎ। 1957 সালত ময়নাগুড়ি (Maynaguri) কেন্দ্র হাতে জয়লাভ করেন। ইতিমধ্যে উমার কর্মসাধনা হয়া উঠিল্ শিক্ষা বিস্তার করা। ফালাকাটা, ময়নাগুড়ি থাকি পূবে কুমারগ্রাম পর্যন্ত পত্তিটা জাগাত নয়া নয়া স্কুল নির্মানের জন্যে উমার অগ্রণী ভূমিকা ছিল। 

এই মহান কর্মবীর দেশের জন্যে নিজের জীবন উৎসর্গ করিলেও স্বাধীন ভারতত প্রাপ্য সন্মান দেওয়া হয়নাই খালি এম.এল.এ – র হাটত (MLA Haat) উমার এখান আবক্ষ মূর্তি ছাড়া। অ্যালাকার নেতালা উমার ইতিহাস জানেও না, জানার আগ্রহও নাই কওয়া চলে। দার্জিলিং এর সাউথফিল্ড কলেছের অধ্যাপক ডঃ দীনেশ চন্দ্র রায় যজ্ঞেশ্বর রায়ক নিয়া একটা আর্টিকেল লেখিছেন যা ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয় থাকি পরকাশ করা হৈচে। 

1971 সালের 27শে মার্চ রাঙ্গালিবাজনা বাজার থাকি বাড়ি ফিরানির রাস্তাত সৈন্ঝার সমায় দলবদ্ধ আততায়ীর ধারহালা ছোড়ার আঘাতে উমরা দেহত্যাগ করেন। কিন্তুক আশ্চর্যের বিষয় উমার সেই মৃত্যুর কোনোরকম তদন্ত হয়নাই বা হৈলেও দায়সারা করি ছাড়ি দিচে। উত্তরের কামতাপুরী কোচ রাজবংশী (Kamtapuri-Koch-Rajbanshi) সমাজের এইটায় দুর্ভাগ্য যে কলিকাতা পরিচালিত প্রশাসন যতটা সংবেদনশীল অন্য সমাজক নিয়া ততটা উদাসীন কামতাপুরী কোচ রাজবংশী সমাজের যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা নিয়া। নাহৈলে যজ্ঞেশ্বর রায়ের নাকান এই মহান নেতার এংকরি আদানুটি হয় বা কালক্রমে হারে যায়? মাননীয় হরিমোহন বর্মন মহাশয়ক দন্ডবৎ থাকিল্, দুস্প্রাপ্য সৌগ তথ্য সগারে  সামনত তুলি ধরি আস্তকে রাখির জন্যে।

Share this:

Leave a comment