Categories
ABORIGIN ভাষা - কামতাপুরী / রাজবংশী

“নিজ দেশ ভাষা বন্দে রচিয়া পয়ার” – বিবেকানন্দ সরকার

নিজ দেশ ভাষা বন্দে রচিয়া পয়ার”

লেখাইয়া: বিবেকানন্দ সরকার

ভাষা নিয়া ভালেদিন থাকি ক্যাচাল হবার ধৈরচে। ঠিক ভাষা নিয়া কৈলে ঠিক হৈবেনা, কথাটা হৈল্ ভাষার নাম নিয়া ক্যাচাল। নানা মুনির নানান মত। হজসন (B.H. Hodgson) সাহেব কি কয়া গেইচেন, গ্রীয়ারসন সাহেব (George Abraham Grierson) কি কয়া গেইচেন এইনাকান আর কি। তারপরে ভাষাবিদ ডঃ সুনিতী কুমার চট্টোপাধ্যায় বা মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সাহেব (Md. Shahidullah) ভাষার কি নাম কয়া মত পরকাশ করিচেন এইলা নিয়া তর্ক করি আর  আর কোন্ ভাষাবিদের সাথত নিজের মনের মতন মতটা মিল্ খাইল্ সেইটায় পরকাশ করির চেষ্টা করি। কাংও কয় আমরা ছোটো থাকে  অমুক নামটা শুনচি সুতরাং ঐটায় নাম হোক, কাংও কয় ভাষাতত্ব হিসাবে এই নামটায় হওয়া উচিত। কায় কি কয়া গেইচেন ভাষার নাম নিয়া আর নিজের মনের মতন মতটার সাথত মিল্ খাইলে ভাল্ নাহৈলে বয়া এইনাকান ধারনা নিয়া থাকাও ঠিক নাহয় আর তর্ক করিয়াও লাভ নাই। আসল কথা হৈল্ একে ভাষার দুই নাম নিয়া দুইটা অ্যাকাডেমি থাকার থাকি একটা অ্যাকাডেমিও না থাকুক তালেও ভাল্ কারণটা হৈল্ এইটাও আমারলাক আরো বিভাজন করির ধৈরচে নিঃশব্দে, নীরবে। গেরামের যে মানষিলা আসলেই ভাষা সংস্কৃতির রক্ষক, যার সাকাল থাকি সৈন্ঝা এই ভাষাতে কাটে, সেই মানসিলার মুখত কিন্তুক ভাষার নাম নিয়া কচকচানি শুনির পাইবেন না। ভাষার নাম নিয়া কচকচানি কায় করির ধৈরচে যায় খানেক বই পড়িচে (কোন ভাষাত বই পড়িচে সেটা আর না কং), শিক্ষিত হৈচে তায়, অথচ উমার বেশীরভাগলার কিন্তুক সাকাল থাকি সৈন্ঝা এই ভাষাত সমায় কাটে না। সমায় কাটে কোন ভাষাত সেটাও খুলি নাকং। আর কিছু ভাষার নাম ভাঙে খাওয়া মানসি ভাষার নামের (ভাষার উন্নতি নিয়া নাহয়! ) সমস্যা না মিটিয়া ঝিৎ করি আছে। ক্যান্সার রোগক সমায় মতন ট্রিটমেন্ট না দিলে যা হয় এই ভাষার ভবিষ্যৎও ঐনাকানে।

এবার কথা হৈল্ জাতির নামে ভাষার নাম না জাগার নামে ভাষার নাম, এই জিনিসটায় গন্ডগোলের মেইন কারণ। এই প্রসঙ্গে মোর একটা জিনিস মাথাত বারে বারে টোকা দেয়, আমরা যেলা সব্জি বাজার যাই বা মাছ বাজার যাই আমরা কি কি শুনি – 
হলদিবাড়ির সব্জি
বিহারের রুই
বক্সিরহাটের রুই
গঙ্গারামপুরের মাছ
আসামের কুমড়া
বর্ধমানের আলু
তারপরে দই বা মিষ্টির ব্যাপারত শুনিবেন – 
গঙ্গারামপুরের দই
বানেশ্বরের দই
কৃষ্ণনগরের সরপুরিয়া
ভেটাগুড়ির জিলাপি
বেলাকোবার চমচম

মোর মাথাত যে জিনিসটা ঢোকেনা তার সাথত বোধায় আরো ভাইল্যা বিদগ্ধ পন্ডিত মানসির মাথাত ঢোকেনা সেইটা হৈল্ এই যে ভেটাগুড়ির জিলাপি বা গঙ্গারামপুরের দই, তার মানে কি ভেটাগুড়িত যত জিলাপির দোকান আছে কুল্লারে গুণগত মান (quality) একে? বা গঙ্গারামপুরত যত দোকান দই বানায় সগারে দই এর কোয়ালিটি একেনাখান ভাল্। নিশ্চয় না; হাতের চাইরটা নগুলে একসমান নাহয় আরো আলদা আলদা মিষ্টির দোকানের মিষ্টি একেনাকান হৈবে। মুই যেদু শিলিগুড়িতে দেখং দুই একটা দোকান বাদ দিয়া বেশীর ভাগ দোকানের মিষ্টি মুখত দেওয়া যায় না। তালে মানসি জাগার নাম দিয়া প্রচার করিচে ক্যা?? ভেটাগুড়ির যে দোকানটা ভাল্ জিলাপি বানায় সেই দোকানের নামে প্রচার করা উচিত ছিল। যেমন “অমুক জুয়েলার্স, আমারলার কোনো শাখা নাই”। 

কথাটা হৈল্ শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানসি নিজের জাগার নাম রৌশন করির চায় নিজের ব্যক্তিগত দক্ষতার সাহায্যে। এটা একধরনের উদার মনোভাবের বহিঃপ্রকাশও কওয়া যায়। এইটাও কথা যে, মানসি যেদু ভেটাগুড়ির জিলাপি ভাল্ কয় তালে ভেটাগুড়ির সেই জিলাপির দোকানদার এইটাও তো প্রচার করির পাইল্ হয় যে ভেটাগুড়ির অমুক দোকানের জিলাপি বিখ্যাত। কিন্তুক সৎজ্ঞানী মানসি এই জিনিস করে না। উমার নিজের জাগাক ভাল্ পায় আর নিজের জাগার নামের যাতে শ্রীবৃদ্ধি হয়, ভেটাগুড়ির বাকী মিষ্টি দোকানদারলারও যাতে উন্নতি হয় এই জিনিসটাতে খুশি হয়। 

মোট কথা, একটা ভৌগোলিক পরিসীমার ভিতরাত একটা বিশেষ গোষ্ঠীর নামত ঐ ভৌগোলিক পরিসীমার ভাষার নামকরণ করা বা সেইটাক সমর্থন করা যতটা বুদ্ধিমানের কাজ তাররথাকি বেশী দূরদর্শী, বুদ্ধিমান তথা উদারতার কাজ হৈল্ ঐ ভৌগোলিক পরিসীমার নামত ভাষার নাম করা। 

বিঃদ্রঃ মহারাজা বিশ্ব সিংহের সভাকবি পীতাম্বর মার্কণ্ডে়ও পূরাণ অনুবাদ করেন কামতা ভাষাত/ নিজ দেশ ভাষাত।

“পুরাণাদি শাস্ত্রে জেদি রহস্য আছয়
পন্ডিতে বুঝায় মাত্রা অন্য না বুঝোয়
এ কারণে শ্লোক ভাঙ্গি সব বুঝিবার
নিজ দেশ ভাষা বন্দে রচিয়া পয়ার।”

# Nij Desh Bhasha Bonde Rochia Poyar

View All Postsআপনিও পোস্ট করুনAdvertise your Product or Service
Share this:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

24 Views