কান্তেশ্বর রাজার রাজপুরী নির্মাণ / গোসানী মঙ্গল

চতুর্থ লহরী

[ রাজপুরী নির্মাণ ]

কৈলাসে থাকিয়া চণ্ডী করিল হুঙ্কার ।
আইল বিশ্বকর্মা দেব চণ্ডীর দুয়ার ।।
বিশ্বকর্মা প্রণমিল চণ্ডীর চরণ।
কি আজ্ঞা করহ চণ্ডী করিব তত ক্ষণ ।। ১৩১
চণ্ডী কহে বিশ্বকর্মা চল য়েইক্ষণ।
জামবাড়ী নগরে পুরি করহ নির্মাণ।।
কান্তনাথ হবে রাজা রাজ্যের পালন।
য়েই হেতু তোমাকে করিলাম স্মরণ ॥ ১৩২
শুনিয়া বিশ্বকর্মা আইল শীঘ্র গতি।
আপনার অস্ত্র ধরি শিষ্যর সংহতি।।
আসি উপনীত হইল জামবাড়ী নগর।
আজ্ঞা দিল বিশ্বকর্মা বান্দ আগে গড় ।। ১৩৩।
দীর্ঘ প্রস্থে য়েকই সম হল যেক ছার মাটি।
তিন ছার মাটিয়ে বান্ধ করি পরিপাটি।।
কোদাল ধরিয়া মাটি কাটে শিষ্যগণ ।
দশদণ্ড মধ্যে হৈল গড়ের নির্মাণ ॥ ১৩৪
গড় বান্ধি বিশ্বকর্মা নিরীক্ষণ করে।
উচ্চ হৈল গড় আকাশক্ ধরে ।।
দুয়ার না হইলে গড় মরণ সমান ।
যাতায়াত কিমতে হবে সৈন্যসেনাগণ ॥ ১৩৫
শিষ্যগণ পাঠাইল পৰ্বত উপর ।
ত্বরিতে আনিল তার গরিষ্ঠ পাথর ।
পূৰ্বে শ্ৰীবচ্ছ রাজা ছিলেন বেহারে ।
শনি ছাড়ি তপ করি গেল স্বর্গপুরে ॥ ১৩৬
বেহারে হইল রাজা ভগদত্ত বীর ।
কুরুক্ষেত্রে যুদ্ধ করি ছাড়িল শরীর ॥
বেহার অরাজক হৈয়া কত কাল ছিল।
তার যত দালান কোঠা ভাঙ্গিয়া আনিল ॥ ১৩৭
পূৰ্ব দিকে কাটে গড় প্রথম দুয়ার ।
ধম্মদুয়ার বুলি নাম রাখে তার ।।
ইট পাথর দিয়া বান্দে দ্বার খান।
লােহার কপাট করি দিল অনুপাম ॥ ১৩৮
য়েই মতে পূৰ্ব্ব দ্বার হইল নির্মাণ।
উত্তর গড়ক্ নাগি করিল প্রয়াণ ।।
কাটিল উত্তর দুয়ার পরম সুন্দর।
ইট লােহায় বান্ধে কপাট পাথর ॥ ১৩৯ |
অক্ষয়দুয়ার বুলি রাখে, তার নাম ।
পশ্চিম গড়ক্, নাগী করিল প্রয়াণ ।
কাটিল পচ্ছিম গড় অতি অনুপাম।
ইট দিয়া সেই দ্বার করিল নির্মাণ ॥ ১৪০
পাথরের স্তম্ভ গারি লােহা খিল দিন ।
লোহার কপাট জয়দ্বারে লাগাইল ।।
দক্ষিণ গড়ের দ্বার হৈল মনােহর।
শিলের স্তম্ভ দিয়া নাম রাখে শিলদ্বার ॥ ১৪১
পাথরের কপাট নাম রাখে শিলদ্বার ।
আসনে চলিয়া আইল দক্ষিণ গড় ।।
কাটিল দক্ষিণ দ্বার দেখি সুশোভন ।
ইট পাথরে বান্দি করিল নির্মাণ ॥ ১৪২
য়েই মতে চারি দ্বার করিল নির্মাণ।
চারি দিকে বিশ্বকর্মা করে নিরীক্ষণ।।
নির্মাণ হইল গড় দেখিল নয়নে।
শিষ্য সঙ্গে করি আইল বাহির উদ্যানে।। ১৪৩
বিশ্বকর্মা কহে শুন শিষ্য কর্মিগণ ।
গড়ের দক্ষিণে কর গড়ের নির্মাণ।।
আজ্ঞা পাঞা কর্মিগণ গড় বানাইল।
গড়ের মধ্যেতে ঘর যত্নে বান্ধাইল ।। ১৪৪
শাল খুটা সিঁড়ি করি লােহা খিল দিল।
বেতের ছাউনী দিয়া বাঙ্গলা বান্দিল ।।
খেড়ি ঘর বার গােটা করিল নির্মাণ।
নানা চিত্র করে তাতে দেখি সুশােভন ॥ ১৪৫
হেঙ্গুল হরিতাল দিয়া করিল বরণ।
জামের ভুবন কিবা ইন্দ্রের সদন।
লোহার কপাট দ্বার লােহার খিড়িকি।।
ইট দিয়া বনাবন্দি করিলেন পাকি॥ ১৪৬
য়েই মতে কাচারি করিলেন নির্মাণ।
বারবাঙ্গলা বুলি রাখে তার নাম ॥
তথা হইতে কর্মিগণ করিল গমন।
গড়ের নিকটে আসি করে নিরীক্ষণ ॥ ১৪৭
চারিদিকে গড়খাই জলেতে ভরিল।
চারি দুয়ারে চারি আইল বান্ধাইল ॥
আইলের বগল বাদে ইট বসাইয়া।
সানবান্দা ঘাট লোক চলে সেই দিয়া।। ১৪৮
উত্তর দ্বার গেল পুন করিয়া বিচার।
তথা য়েক পুরি করে রাণী থাকিবার ।।
পঞ্চঘর বান্ধাইল পরম সুন্দর
কোট কাটি ঘের তার চারিদিকে গড়।। ১৪৯
বিচিত্র বরণ ঘর দেখিতে নিৰ্ম্মল ।
ডের বুড়ি ইন্দ্রা দিল খাইবার জল ।।
পরম সুন্দর পুরী অমরা সমান।
পুরীর তুলনা নাই য়ে তিন ভূবন ৷৷ ১৫০
পুরীত্ শীতল হবে রাজার বিলাস।
পুরীর রাখিল নাম শীতল আওয়াস ॥ 
তথা হইতে কর্মিগণ আইল আর বার।।
পূৰ্ব দিকে বান্দে মঠ চণ্ডী পূজিবার ॥ ১৫১
চারিদিগে ছােট দেওয়াল করিল নির্মাণ।।
দেওয়ালের চারিদিগে দ্বার চার খান।।
লােহার কপাট দিল অতি মনােহর।
মধ্যে মধ্যে বান্দে কত পাথরের দ্বার ॥ ১৫২
পশ্চিম দুয়ারে দিল বালাখানা করি।
নহবত্ খানা বাদ্য তাহার উপরি।। 
মঠ মধ্যে শ্বেত ইন্দ্রা করিয়া নির্মাণ।
চণ্ডীকার মঠ চিত্র করে কর্মিগণ ॥ ১৫৩
ইট পাথরে বান্দে হেঙ্গুলে অঙ্গায় ।
সিংহ পৃষ্ঠে সিংহাসনো নিৰ্মাইল তায় ।। 
তথা হইতে পশ্চিমে কৰ্ম্মী আগমন ।
য়েক খানি ডিঘি খুড়ি শিবের কারণ।। ১৫৪
পাথরের বান্দাতার চারিখানি ঘাট।।
সেইখানে নিৰ্মাইল হর গৌরী পাট ॥
ডিঘিত করিবে স্নান রাজা কান্তেশ্বর ।
গৌরী পাটে পুজিবেক উমা মহেশ্বর ॥ ১৫৫
ভােলানাথ করহ দয়া দেব উমাপতী।
ভোলানাথের ডিঘি বুলি হৈল তার খ্যাতি।। 
বিশ্বকৰ্ম্মা আইল ডিঘি করিয়া নির্মাণ ।
রাজার বান্দেন পাট করিয়া সন্ধান ।। ১৫৬
ইট পাথরে বান্দে মহারাজ পাট ।
নানা বর্ণে চিত্র করি করে কত ঠাট ।।
ঘাটের পূর্বে দুই ডিঘি খোঁড়াইল
পাথর কাড়িয়া তার ঘাট বান্ধাইল ॥ ১৫৭
পাটের ঈশান কোণে বান্দিল কৈলাশ ।
যে ঘরে করিবে রাজা নিধুবন বাস ।। 
পাটের চতুর্দিগে বান্দাইল ঘর।
ইন্দ্রের অমরা যেন পরম সুন্দর ॥ ১৫৮
রাজার বিলাস ঘর দুই সরােবরে ।
সুরঙ্গ করিয়া দ্বার ঢাকিল পাথরে ।।
য়েই মতে রাজপাট করিল নির্মাণ ।
দেবের ভুবন যেন দেখি বিদ্যমান ॥ ১৫৯
রাজ মাতার একঘর করিল তৈয়ার ।
য়েক গােটা শিলখুড়ি স্নান করিবার ।। 
বুড়ি করিবে স্নান শিলের খােরায় ।
শিলখুড়ি বলিয়া তাহার নাম কয়॥ ১৬০
পাটের পূর্বদিগে আইল আর বার।
ধর্ম্মশালা আদি তথা বান্দে কত ঘর ।। 
বেপারি কাইঞা পট্টি হবে যত জন।
স্থানে স্থানে বান্দে ঘর তাহার কারণ।। ১৬১
ঘোড়াশাল হাতীশাল বান্দে কত ঘর।
চিত্র বিচিত্র করেন ঘরের ভিতর ।। 
রাজপাট চণ্ডীপাট সড়ক করিল।
নানা বর্ণ চিত্র পুরি নির্মাইল ।। ১৬২
এই মতে রাজপুরী করিল নির্মাণ।
গড়ের বাহির হৈল দক্ষিণে উদ্যান॥
পূর্ব দক্ষিণ কোণে খােড়ে সরােবর।
সোয়ারী খেলিবে রাজা জলের উপর ॥ ১৬৩
দীর্ঘে প্রস্তে আধ ক্রোস সেই সরোবর ।
দুই দিগ সরু তার মধ্যেতে প্রসর॥
নৌকায় চড়িয়া তাতে হবে জল খেলা।
সেই সরোবরের নাম রাখিল পেটলা।। ১৬৪
পুনর্বার কর্মিগণ গড়ের ভিতর।
অস্ত্র তৈয়ার করে খুড়িয়া হাপর।। 
হাতিয়ার কিরীচ দাই সাইঙ্গ ভােট ছােড়া।
খাপর বল্লম আদি বানাইল কোড়া॥ ১৬৫
য়েক শত বন্দুক যে করিল তৈয়ার।
দুই তােপ বানাইল দেখি ভয়ন্কর।। 
কালু খাঁ ফতে খাঁ রাখে তার নাম
গড়ের উপরে রাখে তােপ অনুপাম ॥ ১৬৬

[৫ম লহরী]

পাটের দক্ষীণ ভাগে খীল বানাইল
তীর গুলি বন্দুক আদি সকট ভরিল।। 
সহর বন্দর ঘর সকলি করিল। 
য়েই মতে বিশ্বকর্মা পুরী নির্মাইল ॥ ১৬৭
আপনার অস্ত্র যত সকলি লইল ।
কোদালের য়েক ছারে য়েক দীঘি দিল ।। 
সেই দীঘিত অস্ত্র ধুইল কর্মিগণ।
কোদাল ধোয়া বুলিয়া হৈল তার নাম ॥ ১৬৮
বিশ্বকর্মা গেল চলি কৈলাস ভূবন।
শিষ্য সহিত বন্দে চণ্ডীর চরণ।। 
পুরী নির্মাণ হইল কৈল নিবেদন।
বিশ্বকর্মা চলি গেল আপন ভূবন।। ১৬৯
চণ্ডীর বরের কথা না যায় কথন
চণ্ডী পুজিলে সেই পায় ধন জন ।। 
হরি হর পুজ দুই চরণ যুগল
ভনে কবি রাধাকৃষ্ণ গােসানী মঙ্গল॥ ১৭০
তিন প্রহর রাত্রিত্ পুরীর নির্মাণ
শেষ প্রহরে চন্ডী করিলেন স্বপন
শুন বাপু কান্তনাথ আমার উত্তর 
প্রভাতে হইবা তুমি রাজ্যের ইশ্বর।। ১৭১
পুরীর নির্মাণ হইল রাজ আভরণ। 
ছত্র ধরি রাজা হৈয়া পাল প্রজাগণ।। 
আজি কান্তনাথ নাম ঘুচিল তােমার
মাের বাক্য বের্থ নহে সুন তৎপর ॥ ১৭২
কান্তনাথ নাম তার হৈলা রাজ্যেশ্বর ।
আজি হৈতে নাম তাের হৈল কান্তেশ্বর ॥
তথা হইতে অঙ্গনাকে করিল স্বপন
তোর পুত্র হৈবে রাজা চণ্ডীর বচন ॥ ১৭৩
পঞ্চ কন্যা জন্ম হইল বিনন্দের ঘরে
সেই কন্যা আনি বিভা দেও পুত্রবরে ।। 
অভিসেক করি কর রাজ্যের রাজন ।
অঙ্গনাকে চণ্ডী আসি করিল স্বপন ॥ ১৭৪
তথা হৈতে চণ্ডী করিলেক গমন।
শশিবরক গিয়া করিল স্বপন ।। 
শিয়রে বসিয়া কহে শুন শশিবর ।
জামবাড়ী নগরে রাজা হইল কান্তেশ্বর ॥ ১৭৫
তুমি তার পাত্র হও হেলা না করিবা
অবস্য আমার বাক্ষে মন্ত্রী হইবা॥
তথা হইতে চণ্ডী অন্য দিকে যায়
রাজ্যে রাজ্যে যত লােক স্বপন করায়।। ১৭৬
চাকুরী সিপাই পাইক আছে যত জন।
সবাকে যাইয়া চণ্ডী করিল স্বপন ॥
কান্তেশ্বর রাজা হইল বেহার দক্ষিণে।
চাকুরী কর গিয়া সেই রাজা স্থানে ।। ১৭৭
কাঞিয়া বেপারী যত সাখারী কামারী ।
মনিহারী আদি আর যতেক পসারী।। 
তেলি মালি হাড়ী বাদিয়ার মুচিয়ার।
দোকানি বাজারি আদি হরকরা আর ।। ১৭৮
স্বপন করায় চণ্ডী বিবিধ প্রকারে।
চলহ যতেক লেওক কান্তেশ্বর পুরে ।। 
কামার কুমার ডােম ডাওয়াই ডোকল ।
স্বপন দেখিয়া মনে বড় কুতুহল। ১৭৯
তথা হইতে চণ্ডী করিল গমন
ব্রাহ্মণ অতিত ঘরে করায় স্বপন।। 
বেহারত্ হইল রাজা নাম কান্তেশ্বর
তাহার সদনে সবে চল দ্বীজবর ।। ১৮০
সর্বস্থানে য়েই মতে করিল স্বপন।
কৈলাস ভূবনে চণ্ডী করিল গমন।। 
চণ্ডীর বর দেখ কভু মিথ্যা নয়।
কান্তেশ্বর নাম রাজা হইল উদয় ॥ ১৮১
করহ চণ্ডীর পুজা পাবা ধন বর।
ধন দিয়া পুজা কর দেব দ্বীজবর ।। 
দেবতার বরে লক্ষ্মী হইবে চঞ্চল 
ভনে কবি রাধাকৃষ্ণ গোসানী মঙ্গল ।। ১৮২

[ষষ্ঠ লহরী]

নিশি হইল ভাের চণ্ডীর পাইরা বর
জাগিয়া উঠিল কান্তেশ্বর
অঙ্গনা জাগিল পরে হরিবােল উচ্চৈস্বরে
ডাকি কহে শুন পুত্রবর।। ১৮৩
চণ্ডী প্রসন্ন হৈল আজি দুঃখ দূরে গেল
দেখ পুত্র পুরীর নির্মান
স্বপ্ন করিল মােক শুন বাপু কহ তােক
পূজা কর চণ্ডীর চরণ।। ১৮৪
পুজা করি হও রাজা পালিবা যতেক প্রজা
বৈস গিয়া পাটের উপর।
কান্তেশ্বর বলে মাতা উত্তম কহিলা কথা
চণ্ডী মােক দিছে রাজ বর। ১৮৫
য়েত বলি করি স্নান আনে পুষ্প আয়োজন
মায়ে পুতে করেন পুজন।
সুত্র মান অনুপাম গৃহে আসি উপসন
নিবেদন করিল ব্রাহ্মণ ॥ ১৮৬
চণ্ডী পুজা বিসর্য্যন মুখে কহে দুর্গানাম
ব্রাহ্মণ দেখিয়া প্রণমিলা।
শুন রাজা কান্তেশ্বর নিবেদয় দ্বিজবর
শুন রাজা পূর্ব বিবরণ । ১৮৭
শিষ্য হইবা মাের যশ রাখ নৃপবর
রাজগুরু হইব অনুক্ষণ
শুনি কহে কান্তেশ্বর শুন গুরু দ্বিজবর
মন্ত্র দেহ ধরিল চরণ ।। ১৮৮
সেইক্ষণে আচমনি কর্ণ ধরে দ্বিজমনি
কান্তেশ্বর হইল উপাসন।
দ্বিজে দিল দূর্গানাম কান্তেশ্বর অনুপাম
নমঃ গুরু বন্দিল চরণ।। ১৮৯
গ্রামে প্রজা নারীগণ আসি মিলে সর্বজন
আনন্দ বাধাই সর্ব্বক্ষণ।
নানা দেখি বিপ্রগণ তার হইল আগমন
কান্তেশ্বর রাজা ভাগ্যবান।। ১৯০

কার্তিকের পঞ্চদিনে চণ্ডীবর উপসনে
অভিসেক করে বিপ্রগণ।
শুরু পক্ষ দ্বিতীয়ার তারা চন্দ্র সুদ্ধ যার
প্রীতি যোগ তাহে উপসন ॥ ১৯১

বানিজ করেন যার গুরু দৃষ্টে গুরুবার
কার্তিকের চন্দ্রে রাজা হৈল।
নারীগণ উলাউলি ভাটে দেয় করতালি
কান্তেশ্বর পাটত্‌ বসিল ॥ ১৯২

ঘট গছা সারি সারি কদলী পতকা গাড়ি
নানা বাদ্য কোলাহল হৈল।
অঙ্গনা আনন্দ হৈল তার পুরে প্রবেশিল
চণ্ডীবরে বাঞ্ছা সিদ্ধি হৈল ॥ ১৯৩

করহ চণ্ডীর পুজা সুখে রবে যত প্রজা
চণ্ডীবরে লক্ষ্মী চঞ্চল।
হরি পরসন হয় কবি রাধাকৃষ্ণ কয়
সুমধুর গোসানী মঙ্গল ॥ ১৯৪

[ সপ্তম লহরী ]

তিন দণ্ড বেলি মধ্যে কান্তেশ্বর রাজা
চণ্ডীবরে যত লোক সবে হৈল প্রজা ॥
কৈলাসে থাকিয়া চণ্ডী হুঙ্কার করিল
হস্তী ঘোড়া সৈন্য সেনা আচম্বিতে হৈল ॥ ১৯৫ অশ্বসালে বান্ধা আছে হাজার তুরঙ্গ।
মাহুত সহিতে আর শতেক মাতঙ্গ ॥ 

বিশ্বকর্মা নির্মাইল যত অস্ত্রগণ ।
সৈন্যগণ ধরি তাহা করিছে কামান ॥ ১৯৬
নানা দেশ হৈতে কত চাকুরিয়া আইল ।
ঘরে ঘরে আসি সবে বাসা করি রৈল॥
সাখারী কাঁসারী কাইঞা যত মহাজন।
দুয়ারে আসিয়া সবে ধরিয়া দোকান।। ১৯৭
ব্রাহ্মণ সন্নাসী কত অতিথি আইল।
ধর্ম্মশালা ঘরে আসি সবে বাসা কৈল ॥
য়েই মতে কান্তেশ্বর রাজধানী হৈল।
আপন গৃহত্ শশী জাগিয়া উঠিল ॥ ১৯৮
শ্রীদূর্গা বলিয়া শশী ভাবে মনে মন।
পাত্র হৈব চন্ডী করইল স্বপন।।
জামবাড়ী নগরে রাজা হইল কান্তেশ্বর ।
তাহার দেওয়ান আমি চন্ডী দিল বর।। ১৯৯
স্নান দান করি শশী করিল গমন
য়েক খানি ঝারি হাতে দ্বারে উপসন ॥ 

বিপ্রক প্রণাম করি রাজাক বন্দিল।
কোথা হৈতে আইলা তুমি রাজা জিজ্ঞাসিল।। ২০০
শশী কহে নিরেদন রাজা কান্তেশ্বর।
মহা ধার্মিক তুমি ধর্ম কলেবর ॥
চণ্ডীর আদেশে পাত্র হৈল তোমার।
নাম মোর শশিবর আইল তব দ্বার ॥ ২০১
শুনি রাজা কান্তেশ্বর আনন্দ হইল
সেইক্ষণ শশিবরক্‌ দেওয়ান করিল ॥
আজ্ঞা করিল রাজা শুন শশিবর
শীঘ্রে সন্দেস আন ভবাণী পুজার ॥ ২০২ 

আদেশ পাইয়া শশী মহানন্দ মন।
লোকজন সঙ্গে করি আনে আয়োজন।।
আতর্প কদলী চিনি বেলাদি শ্রীফল।
জবাফুল আমলকী আনিল সকল ॥ ২০৩
চণ্ডী পুজার মঠ কর্মী বান্ধি ছিল।
সেই মঠে আয়োজন সকলি রাখিল ॥
রাজগুরু স্নান কৈল শুক্র দ্বিজবরে।
কুশাসনে বসি দ্বিজ চণ্ডী পুজা করে ॥ ২০৪
গনেশাদি পঞ্চদেব করিল পূজন।
নানা বাদ্য কোলাহল ঘণ্টা ঠন ঠন ॥
চণ্ডী মণ্ডপে রাজা আইল শীঘ্র গতি।
গলায় বসন বান্দি রাজা করে স্তুতি॥ ২০৫
ছাগ মহিষ কাটি করিল পূজন।
মহা মহোৎচ্ছবে পূজা কৈল সমাধান ॥
প্রসাদ নির্মাল্য আদি দিল দ্বিজবর।
নির্মাল্য ধারন কৈল মস্তক উপর ॥ ২০৬
ধর্মশালায় আছে সন্নাসী ব্রাহ্মণ।
দক্ষিণা ভুজনি দিয়া তুষিলেন মন ॥
ঘরেতে অঙ্গনা মায় করিছে রন্ধন।
যজ্ঞ অবশেষে রাজা করিল ভোজন ॥ ২০৭ 


[অঙ্গনার মৃত্যু ]

চণ্ডী বরে ধন কড়ি সকট পুরিল।
পঞ্চদিনে রাজ-পদে অঙ্গনা মরিল ॥
হাহাকার করি রাজা করিছে ক্রন্দন ।
রাজপদ দিয়া বিধি কৈল বিড়ম্বন ॥ ২০৮ 

বিধির বিপাকে মোর হয় য়েত দশ|।
যে করে ভবাণী মায়ের চরণ ভরষা।।
তৃণ কাষ্ঠ আনি তার করিল সংস্কার।
পিণ্ড দিলেন তার ক্ষেত্রির ব্যবহার ॥ ২০৯
দান দক্ষিণা রাজা অনেক করিল।
চণ্ডী ভাবিয়া রাজা সুস্থির হইল ॥ 
প্রভাতে উঠিয়া রাজা কৈল স্নান দান।
বাহির উদ্যানে কহে আন বান্যাগণ ॥ ২১০

[মোহর নির্ম্মাণ ]

হুকুম পাইল যদি শশিপত্র বর।
আনিল বনিঞা ধরি রাজার গোচর ॥
গলেত বসন বান্ধি করিল প্রণাম।
কি হুকুম কর রাজা কহে বান্যাগণ ॥ ২১১
রাজা কহে স্থির হও নাহি কোন ভয়।
মোহর কোবাও কন্যা আমার আজ্ঞায় ॥
আদেশীয়া মহারাজ পুরী মধ্যে গেল।
দুয়ারে বাণিঞাগণ হাপর পাতিল ॥ ২১২
কান্তেশ্বর নাম লেখি জাকীনি বানায়।
হাজারে হাজারে টাকা জাকীনি কোবায় ॥ 
সোনার মোহর বান্দে হাজারে হাজারে।
সকট পুরিল নিয়া অন্দর ভিতরে ॥ ২১৩
চণ্ডী বরে ধন জনে সকলি হইল।
রাজপাটে রাণী নাই রাজ চিন্তিল॥
রাজা ভাবে চণ্ডীকার চরণ যুগল।
ভনে কবি রাধাকান্ত গোসানী মঙ্গল ॥ ২১৪ 

[ কান্তেশ্বর রাজার বিবাহ ]

তৃতীয়া প্রহর রাত্রি রাজা নিদ্রা যায়।
শিয়রে বসিয়া চণ্ডী স্বপন দেখায় ॥
শুন কান্তেশ্বর বাপু আমার চন।
হৈবে তোমার বিভা কৈণ্যা পঞ্চজন।। ২১৫
স্বপ্নে কহিয়া চণ্ডী কৈলাসত্ গেল।
প্রভাত হইল রাজা জাগিয়া উঠিল ॥
সিংহাসনে বৈসে রাজা বাহির দুয়ারে
হেনকালে গঙ্গাভাট আইল রাজা দ্বারে ॥ ২১৬
ভাটে আশির্বাদ করে রাজা প্রণমিল
বিবরিয়া গঙ্গাভাট সকলি কহিল ॥
শুন রাজা কান্তেশ্বর করি নিবেদন।
বিভাহ করহ তুমি রাজ্যের পালন ॥ ২১৭
বিরলে বিনন্দ নাম প্রজা ভাগ্য-ধরে।
জন্মিয়াছে পঞ্চ কণ্যা তাহার মন্দিরে
সুকঞ্চনা অকঞ্চনা অগ্রজ সুশীলা
শশীতম মধ্যম কণিষ্ঠ বনমালা।। ২১৮ 
গঙ্গাভাট মুখে শুনি হরষিত রাজা।
আনন্দিত আয়গন আর যত প্রজা।।
রাজা কহে শুন ভাট করহ গমন।
যাতায়াতে শুভকার্য্য করহ ঘটন ।। ২১৯
হেন শুনি গঙ্গাভাট দিলেন উত্তর।
যেইখানে আসিয়াছে তোমার শ্বশুর।।
য়েত বলি গঙ্গাভাট বিনন্দক কয়
হাত জোর করি বিনন্দ রাজসভা যায় ॥ ২২০ 

বিনন্দ কহে রাজা কর অবধান।
বিবাহ কর মোর কৈন্যা পঞ্চজন ॥
রাজ কহে পত্র লেখি দেহ দ্বিজবরে
কৈনা দান হেন কথা পুন নাই নড়ে ॥ ২২১
পাত্রমিত্র সভাকরি আছে সর্বজন ।
সেই স্থানে গঙ্গাভাট লেখে পত্রখান ॥
য়েই মতে সেই স্থানে লগ্নপত্র হইল।
করহ বিবাহ কার্য্য রাজা আজ্ঞা দিল ॥ ২২২
ঘরে ঘরে সমঙ্গল করহ প্রজাগণ।
বিবাহর করহ সজ্জা যত আয়োজন ॥
রাজ আজ্ঞা পাঞা পাত্র শীঘ্র গতি চলে।
প্রজাগণ ধাঞা গেল আপন মহলে ॥ ২২৩
চিড়া চাউল খড়ি পাত আনে ভারে ভারে।
হাড়ি পাতিল আনি ভরে রাজদ্বারে ॥
দধি দুগ্ধ ঘৃত চিনি যতেক সম্ভার ।
কদলী শ্রীফল আনে যত ইতি আর ॥ ২২৪
গুয়া পান পুষ্পমাল্য বস্ত্র আভরণ। 
সুসজ্জা করিল আনি যত প্রজাগণ ॥
গুরু পুরহিত আদি যতেক ব্রাহ্মণ।
সকলে আইল দ্বারে পাইয়া নিমন্ত্রণ ॥ ২২৫
প্রথমে চণ্ডীর পূজা করিলেন রাজা।
নানা বাদ্য জয় জয় আনন্দিত প্রজা ॥
চণ্ডী পাঠ হোম করি পূজা বিসজ্জিল।
ধর্মসালায় অতিথির সেবা ভক্তি কৈল ॥ ২২৬ 

 

(ক্রমশ…… Please follow this website)   

# Bholanather dighi # shitalabas # shilkhuri

# Gosani Mangal # Rajpuri nirman # Kodaldhoa dighi

# Kamtapur Rajpat # Chandi thakur # Raja Kanteshwar

Leave a Comment

Your email address will not be published.