বাংলা বই জাগ গান – ডঃ সুখবিলাস বর্মা ।

জাগগান ও অন্যান্য পালাগানের সাধক ও গীদাল স্বর্গীয় কেশব বর্মনকে উৎসর্গ করে এই বইখানি রচনা করেছেন মাননীয় ডঃ সুখবিলাস বর্মা মহাশয় ।

লেখকের প্রাককথনের কিছুটা অংশ তুলে ধরা হল।

জাগ’ অর্থাৎ জাগরণ-গান যে-বিশেষ উপলক্ষে উত্তর বাংলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষেরা গেয়ে থাকেন, সেটি স্থানীয় একটা ধর্মাচারের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও, সমস্ত ব্যাপারটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে ওই বিশাল এলাকার আর্থ-সামাজিক কিছু অনুষঙ্গও। যে মদনকামপূজার সূত্রে জাগ-গানের প্রচলন, সেটি মদন বা প্রেমের দেবতার উপাসনা বলে গৃহীত হলেও, বস্তুত অতি প্রাচীন কয়েকটি ধর্মসংস্কারের সমন্বিত বিবর্তন হিসেবেই বুঝতে হবে তাকে। মদনদেবতাকে ওই অনুষ্ঠানে যে বাঁশের প্রতীকে পূজা করা হয়, এটা বিশেষ উল্লেখযােগ্য। এর কারণ ওই বাঁশপূজার মাধ্যমে আদিম বৃক্ষোপাসনা, যৌনপ্রতীক অর্চনা, অশুভ অলৌকিক শক্তিকে প্রতিরােধ করা এবং রােগব্যাধি দূর করা ইত্যাদি অনেক কিছু সংস্কারেরই সমাপতন ঘটেছে বলে মনে করা যেতে পারে। পূর্ব হিমালয়ের দক্ষিণে যে-পাহাড়ী অঞ্চল বহুশত মাইল ধরে বিস্তৃত হয়ে আছে, সেগানে অজত্র প্রজাতির বাঁশ জন্মায, যা ওইসব এলাকার অধিবাসীদের জীবিশ এবং অর্থনৈতিক-পরিপ্রেক্ষিতের সঙ্গেও ওতঃপ্রােতভাবেই জড়িয়ে আছে।

Read / Download Book


আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে গুরুত্ব না-থাকলে, প্রকৃত প্রস্তাবে কোনও ধর্মীয় বিশ্বাস বা সংস্কার কিংবা আচারই গড়ে যে উঠতে পারেনা, সেই গুরুত্বপূর্ণ কথাটিও এখানে কিন্তু অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা যত ধরনের বা প্রজাতির বাঁশের সন্ধান পেয়েছেন, তার একটা বড় অংশই ঐ এলাকায় পাওয়া যায়। প্রায় দেড়শ বছর আগেই স্যার জোসেফ ডি. হুকার তার ‘হিমালয়ান জার্নাল : নােটস অব এ ন্যাচারালিস্ট-এর মধ্যে (১৮৪৭-১৮৫৪) পূর্ব-হিমালয়ের দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত বারােটি প্রজাতির বাঁশের উল্লেখ করেছেন।……..

Leave a Comment

Your email address will not be published.