আমরি আঈ ভাষা।

এটা একটা মনের ব্যাপার তোমরালা তোমার ভাষাটাক কেমন ভাবে নিবেন (গতানুগতিক শিক্ষিত মানষির জন্যে) ? কোন উচ্চতাত দেখির চান? তোমরালা যেদু মনে করেন যে না ভাষাটা ঘরের ভিতরাতে থাকুক, রাতি টেবিলত বসি খাওয়ার সমায় দুই এখনা শব্দ উচ্চারণ করিয়া ভাষাটাক গন্ডীর ভিতরা রাখি ভাষার উন্নয়ন করির চান। তালে একটায় কতা কওয়ার আছে যে অমন ভাষা উন্নয়ন করার থাকি না করায় ভাল্।

স্বাধীন কামতা বা কোচবিহার রাজ্য  ব্রিটিশের অধীনে আইসার পর থাকি ঝাঁকে ঝাঁকে বাংলাভাষী শিক্ষিত মানষি আসছিল এই কোচবিহার রাজ্যত চাকরী করির জন্যে বা প্রশাসন চালেবার জন্যে। চাকরীজীবী কিছু মানষির স্বভাব থাকে ম্যানেজমেন্টক বা উপরতলার বস ওক ত্যাল মারি বিশেষ কোনো পদ পাওয়ার চেষ্টা করা। ব্রিটিশ কোচবিহারত আইসার পর যে এই জিনিসটাও হৈচে তা আর কওয়ার অপেক্ষা রাখেনা। তার উপরা রাজ্যের টাল মাটাল অবস্থাত নাবালক রাজাক বসে থুইয়া কিছু মানষির উপরানি ছড়ি ঘোরারও প্রবণতা থাকে।

এইবার কথা হৈল্, ব্রিটিশের আইসার আগত কামতা কোচবিহার রাজ্যত কোন ভাষাত প্রশাসনিক কাজকর্ম হবার ধরচিল? কারো মনত কোনোদিন এই পোশনো যেদু না আইসে তালে এবার খানেক চিন্তা করেন। ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার কামতাবেহারী ভাষা বা ডঃ সুনীতি কুমার চ্যাটার্জির কামরুপী ভাষার নাম নিয়া বই রচনা অনেকে পড়ের ঘটনা (100 বছরেরও বেশী, ব্রিটিশের কোচবিহার অধিকার 1773 সন)। আর বাঙালী স্কলারলার রাজবংশী ভাষা নাম দিয়া বই রচনা তো আরো পরের ব্যাপার স্যাপার।যাইহোক ভাষার নাম নিয়া কিছু না কং, আসল কথা হৈল্ উঠতে, বৈসতে দৈনন্দিন জীবনে, বাজার ঘাটে ভাষার ব্যবহার করাটায় হৈল্ আসল।

পুরানি দিন থাকি ম্যালা গীদাল, গীদালীক ছোট থাকি দেখি আসছি (ম্যালা স্বনামধন্য ব্যক্তিও আছে ) গান গাওয়ার আগত বাংলা ভাষা দিয়া শুরু করি কামতা ভুমির মাটির গান ভাওয়াইয়া গান শুরু করিচে আর ঐটায় ট্রেন্ড। এইনাকান করি গান পরিবেশন করার মানেটা হৈল্ ভুমিকা যেদু মাটির ভাষা দিয়া দেন – ওটা কাংও বুঝিবে না বা ওটা স্ট্যান্ডার্ড ভাষা নোমায় বা ঐ ভাষা দিয়া ভুমিকা দিলে নিজের স্ট্যান্ডার্ড ডাউন হৈবে কিন্তুক গানখান সগায় বুঝিবে বা না বুঝিলে বোঝার দরকার নাই, খালি শোনো। সুরতাল দেখি বিচারকের ঘর (কোটেকার বিচারক?) মোর প্রমোশন করাইবে, পুরস্কার দিবে ইত্যাদি।

এতো গেইল্ গীদাল গীদালীর কথা এলা বাড়ির ভিতরার কথা খানেক কবার চাং। এটা সগারে বাড়িত কমবেশী আছে। মোরো বাড়িত যে নাই তা নাহয়। বিশেষ করি টাউনত নয়া নয়া যায় বাড়ি করিচে বা আগের থাকি টাউনত বসবাস। উমারলার ভিতরা এখনা স্ট্যান্ডার্ড চলি আসিচে। কেমন স্ট্যান্ডার্ড? বাড়িত ছাওয়ালা খানেক যেদু শুনি শুনি আঈ ভাষার দুই একটা শব্দ উচ্চারণ করে বাপ মাওলা (হ্যা বিশেষ করি মাওলা) রে রে করি ওঠে। “কি বললি তুই, আর একবার যদি এমন ভাষা মুখে আনছিস” মনে হয় যেন মহাভারত অশুদ্ধ করি ফ্যালাইচে ছাওয়া। বাপ মাওয়ের এইনাকান গেজরন দেখি ছাওয়ার মনের ভিতরাত কি আলোড়ন হৈবে? উনায়রার কোনোদিন চেষ্টায় করিবে না, চেষ্টা তো দূরের কথা ঘিন করা শুরু করিবে। আর নিজের আপামর শহর বা গেরামের যে মানষিলা এই ভাষাত কথা কয় উমাকো পর মনে করিবে, লো স্ট্যান্ডার্ড মনে করিবে। মানে ছাওয়ালাক বাপ মাও এমন একটা ভ্যকসিন দিলেক তার প্রভাব জন্ম জন্মান্তরে রয়া গেইল্। তোমরালা তোমার নিজের ভাষাকে ছোট করেন তো অন্য মানষি তো আরো এক কাঠি উপরা দিয়া কথা কৈবে। ঐজন্যে বাহে ভাষা বা এইনাকান আরো নয়া নয়া টার্মিনোলোজি তৈয়ার হৈচিল।


[আগতে কয়া থোং স্কুলত বাংলা ভাষা মাধ্যমত বই পড়িলে নিজের আঈ ভাষাত ছাওয়ার কথা শেখা হয়না, এটা একটা বড় অজুহাত ছাড়া কিছুই নাহয়। ইচ্ছা থাকিলে উপায় হয় এইটা চিরসত্য]

কোচ রাজবংশী কামতাপুরী থিংক ট্যান্ক আদৌ কোনোদিন ছিল কিনা জানা নাই। নাহৈলে ভাষার এমন আদানুটি নাহৈলেক হয়। এদ্দিন হয়ত স্কুলত চালু হয়া গেইলেক হয়। এদি তোমরালা বাংলাত হাসিবেন, বাংলাত কান্দিবেন আর ওদি আঈ ভাষার কথা কৈবেন সভা সমিতিত তাতো আর হয়না। শিদল ছ্যাকা খাওয়ার লোভত আঈ ভাষাত কথা কৈবেন আর শিদল ছ্যাকা খাওয়ার পর হাত যাতে না গোন্দায় বাংলা সাবন ব্যবহার করিবেন অমন করি তো আর যাই হোক ভাষার উন্নতি হৈবেনা।

# Kamtabehari Bhasha # Amori Aai Bhasha

©️Vsarkar

Share this:

Leave a comment