সমাজে প্রতিনিয়ত ধর্ষণ খুন বাড়ছে কেন ??

সমাজে প্রতিনিয়ত ধর্ষণ খুন বাড়ছে কেন ??

(একটি বিশ্লেষণাত্মক লেখা)

–রতন বর্মা

■অতি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনা লক্ষ্য করেছি আমরা। বারোবিশা থেকে রায়গঞ্জ। আমি শুধু উত্তরবঙ্গের কথা বলছি। গোটা দেশের পরিস্থিতিও একইরকম। আমরা সবাই মিলে কয়েকটি জায়গায় আন্দোলন সংঘটিত করেছি। কুচবিহার ,তুফানগঞ্জ, মাথাভাঙ্গা,দিনহাটা সব শহরেই হয়েছে মৌনমিছিল, প্রতিবাদ। তাই বলে মানুষের মধ্যে যে কোন মানষিক পরিবর্তন হয়েছে সেটা নয়। এই প্রতিবাদ অন্যায়কারীদের একটা বার্তা দেওয়ার জন্য। আমরা হায়দ্রাবাদের ঘটনা দেখেছি। সরাসরি এনকাউন্টার!! আর সেই এনকাউন্টারের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন অনেকেই !! এক নাটকীয় পালা!! সে যাই হোক। উত্তরবঙ্গে একের পর এক যে ধর্ষণ এবং ধর্ষণ পরবর্তী খুন হচ্ছে সেগুলোর দোষীদের কোনরকম শাস্তিপ্রদান এখনও পর্যন্ত আমাদের নজরে আসে নি। কোন দৃষ্টান্ত তৈরি হয় নি অপরাধীদের ভয় পাবার মতো। সেটা দরকার। অপরাধীর কোন ধর্ম, বর্ণ, দল হয় না। অপরাধী অপরাধীই। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে এইরকম অপরাধীরা যাতে কোনভাবে কারো shelter না পায়।

●এখন আসি এরকম ঘটনাগুলো কেন ঘটছে ??

■আমাদের দেশের নিজস্ব একটা সংস্কৃতি আছে। নিজস্ব সংস্কৃতিতেই আমাদের বেড়ে ওঠা। লালিত পালিত হই আমরা আমাদের সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে। কিন্তু দিনকে দিন মানে প্রতিনিয়ত পশ্চিমি সংস্কৃতি আমাদের গ্রাস করছে। মোবাইল দুনিয়ায় সব কিছু এখন আমাদের হাতের মুঠোয়। সবকিছু open । আমাদের সংস্কৃতি কিন্তু এতটা open নয়। আমাদের সংস্কৃতি ছিল কিছুটা শাসনের। বাড়ির বড়দের অনুমতি না পেলে বাইরে বেরোনো নিসিদ্ধ। কিন্তু এখন একমাত্র সন্তানের বায়না,মন রাখতে গিয়ে খোলা ছাড়পত্র !!! যদি আমার ছেলে বা মেয়ে মনে কষ্ট পায় তার জন্য no বাধানিষেধ !!! বাড়িতে স্বাধীন,মোবাইলে স্বাধীন,সাথে গোপনীয়তা, একাকী থাকতে বেশী পছন্দ !!! বাড়িতে কোন অনুশাসন নেই। বিদ্যালয়ে কোন শাসন নেই !! আজ তারা তাই বেপরোয়া। উত্তেজক পাশ্চাত্য সংস্কৃতিতে মগ্ন ছেলেটি বা মেয়েটি কখন যে বাবা মায়ের কাছ থেকে অনেক অনেক দূরে চলে যাচ্ছে বাবা মায়েরা সেটা টের পাচ্ছেন না !! আর ঠিক একারণেই বাড়ছে অপরাধ !!! এর শেষ কোথায় আমরা কেউ জানি না !!

● তাহলে আমাদের কী করণীয় ???

■ব্যক্তি যখন সমস্যা সমাধানে অপারগ তখন স্বাভাবিক ভাবেই সেই দায়িত্ব রাষ্ট্রের উপরে পরে। রাষ্ট্রের উপর চাপ বাড়ে !! মানুষ রাষ্ট্রের কাছে জবাব চায় !!! কিন্তু নিজের কাছে নয় !!! রাষ্ট্র নিরব দর্শক !! একটি এনকাউন্টারের ঘটনায় কিছু মানুষ যেভাবে প্রতিবাদ করেছে তাহলে দেশে ঘটা প্রত্যেকটি ধর্ষণ আর খুনের ঘটনায় এনকাউন্টার হলে কী হতে পারে !! তার মধ্যে আইনের, সংবিধানের বাধ্যবাধকতা তো আছেই।
এই মুহূর্তে দেশে দরকার #ধর্ষণ_বিরোধী একটি #কঠোরতম আইন। দোষীরা #দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাক কিন্তু সেটা আইন মেনেই। আমাদের দেশে নিরপরাধ লোকও অনেকসময় হেনস্থা হয়!! তাই এনকাউন্টার করতে গিয়ে এরকম নিরপরাধ যাতে কেউ চরমতম শাস্তিটা না পায় সেটাও দেখার বিষয়।

■দাবী উঠুক একটি #কঠিন এবং #কঠোর #ধর্ষণ_বিরোধী আইনের

■প্রমাণ লোপাটের জন্য খুন !!! এর জন্যও নেওয়া দরকার উপযুক্ত এবং কঠোর ব্যবস্থা !! দরকার মানষিক চিকিৎসা।

■দেশের বিদ্যালয়গুলিতে নীতিশিক্ষা আর আধ্যাত্মিক জ্ঞানের উপর জোর দেওয়া উচিত। অঞ্চলভিত্তিক নিজ নিজ সংস্কৃতি চর্চার উপর জোর দিতে হবে। তাহলে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ সহজে হবে না। ছাত্ররা একসময় বাবা মায়ের চাইতে শিক্ষকদের বেশি ভয় পেত।এখন পায় না । কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ে শাসনের প্রয়োজন আছে।

■■উত্তরবঙ্গের বেশিরভাগ ধর্ষণ আর খুনের ঘটনা রাজবংশী মেয়েদের উপর সংঘটিত হয়েছে। তারও একটা কারণ আছে। রাজবংশী মেয়েরা স্বভাবগতভাবেই সহজ,সরল এবং শান্ত স্বভাবের। এরা মানুষকে খুব সহজে বিশ্বাস করে। খুব সহজে কাছাকাছি চলে যায়। যাকে বিশ্বাস করে সবকিছু দিয়ে দেয় বুঝতেও পারে না যে সে যেকোন মুহূর্তে তার জীবনটা নিয়ে নিতে পারে। নিজের জীবন খুবই মূল্যবান, তাই সেটা রক্ষা করার জন্য তাদের আরো সচেতন হতে হবে। আমাদের রাজবংশী নারীদের এগিয়ে আসতে হবে। জীবন বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনে আত্মরক্ষার কৌশল শিখতে হবে।

■ বাবা মায়েদের কর্তব্যঃ

যখন দেখবেন নিজের ছেলে বা মেয়ে একাকীত্ব পছন্দ করছে বেশি, কিছু কথা লুকোচ্ছে, মন খুলে কথা বলতে পারছে না, আপনাদের সাথে বন্ধুর মতো সব share করছে না, তাহলে বুঝবেন আপনার ছেলে বা মেয়ে আপনার কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তাই এখন থেকে সাবধান হোন। নিজের ছেলেমেয়েদের বাঁচান।

■■শেষে একটাই দাবি করব মাম্পি সিংহের ধর্ষক ও খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

Share this:

Leave a comment