আপনাদের আদালতে আমরা বিচার প্রার্থী ।

“আপনাদের আদালতে আমরা বিচার প্রার্থী ।”

📝লিখেছেন ডঃ নির্মল চন্দ্র রায়

সুধী,

আপনারা জানেন যে স্বাধীনতা পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গে প্রথম যে উপ আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলটি গঠিত হয় সেটির নাম ‘ উত্তরখন্ড দল ।’ গত শতাব্দীর আশির দশকে এই দল পৃথক কামতাপুর রাজ্য ও কামতাপুরী ভাষার স্বীকৃতির দাবিতে উত্তরবঙ্গের আকাশ- বাতাস মুখরিত করেছিল। আর এই দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন স্বর্গীয় পঞ্চানন মল্লিক । উপরিউক্ত আন্দোলনের তিনি ছিলেন একজন অন্যতম পুরোধা যিনি সামনের সারিতে থেকে ঐ আন্দোলনকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

আপনাদের আদালতে আমাদের অভিযোগ যে উপরে উল্লিখিত পঞ্চানন মল্লিক মহাশয়ের ব্যক্তিগত চরিত্র হনন করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করবার জন্য আপত্তিকর কথা লিখে যে বইটি প্রকাশিত হয়েছিল ইংরেজী 2000 সালে সেই বইটির লেখক স্বর্গীয় সমীরণ দত্তগুপ্ত, মুখবন্ধ লিখেছেন পবিত্র সরকার । আর লেখকের নিজের কথায়: ‘ বইটির জন্মকথা বলতে গেলে আরো কয়েকজনের নাম করতেই হবে । শ্রদ্ধেয় বিমান বসু, অনিল বিশ্বাস, সুবীর বন্দোপাধ্যায়, বিনয় কোনার । যাঁরা আমার মতো এক অর্বাচীনকে আস্কারা দিয়েছেন।’

মুখবন্ধে পবিত্র সরকার মহাশয় লিখেছেন: “——এক হল ইতিহাসের কাল্পনিক পুননির্মান। ইংরেজিতে যার নাম মিথোলোজাইজেশন।—–এই রকম একটি ‘মিথ’ হল কামতাপুরী রাজ্য ।” পরিশেষে তিনি লিখেছেন ‘ সমীরণের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাও এই কথা বলছে দেখে খুশি হয়েছি।’

এহেন লেখক কি নির্ভেজাল মিথ্যা কথা লিখেছেন তাঁর বইয়ে পঞ্চানন মল্লিক মহাশয় সম্পর্কে তাঁর চরিত্র হনন করে এবং তাঁর পিতাকেও আত্মহত্যার কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে । এই অভিযোগ নিয়েই আমরা বিচার প্রার্থী।

সেই মহান বামপন্থী লেখক তাঁর বইয়ের 159 পৃষ্ঠায় লিখেছেন: ‘ এই চূড়াভাণ্ডার গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার জোতদার- – পঞ্চানন মল্লিক ছিল উত্তরখন্ড দলের নেতা ।—এই এলাকার বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে শুনেছি পঞ্চানন মল্লিকের বাবা ছেলের এই ধরনের কাজকর্ম পছন্দ করতেন না । ছেলের বেহিসেবি খরচ ও অপচয়ে বীতশ্রদ্ধ হয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।’

আমার ও স্বর্গীয় পঞ্চানন মল্লিক মহাশয়ের পরিবারের অভিযোগ নিম্নলিখিত:
লেখকের উপরিউক্ত উক্তি সম্পুর্ণভাবে মিথ্যার বেসাতি ও কল্পনা ছাড়া কিছুই নয়।

স্বর্গীয় পঞ্চানন মল্লিক ছিলেন posthumous child অর্থাৎ পিতার মৃত্যুর পরে জাত। কিভাবে তাঁর পিতা তাঁর উপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে আত্মহত্যা করতে পারেন?
পবিত্র বাবুর ভাষায় এটা ইতিহাসের কাল্পনিক বিনির্মাণ নয় কি? আর পঞ্চানন মল্লিক মহাশয়ের চরিত্র কে কালিমা লেপন করার ষড়যন্ত্রের শরীক উনিও নন কি? কি করে না জেনে এই বইয়ের মূখবন্ধ তিনি লিখলেন? তিনি নিজেই কাল্পনিক বিনির্মাণের শিকার নন কি? এটা কি ওনার দ্বিচারিতা নয় কি? আর যাঁদের আশকারা পেয়ে ঐ বইটি লেখক লিখেছেন তাঁদেরকেও একই অভিযোগে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায় না কি? এটাই কি বামপন্থী রাজনীতির প্রকৃত কৌশল ও আদর্শ?

আপনাদের নিকট আমাদের বিনম্র নিবেদন আমাদের স্বর্গীয় পিতৃদেবের যারা চরিত্র হনন করেছিল তাঁদের বিচার আপনারা করবেন এবং রায় প্রদান করবেন ।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছেও বিনিত আবেদন রাখছি যে উক্ত বইটিকে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ বলে ঘোষনা করা হউক।

আমাদেরও আবেগ আছে অস্মিতা আছে। বিনীত

নির্মল চন্দ্র রায় ও স্বর্গীয় পঞ্চানন মল্লিক মহাশয়ের পুত্র ও পুত্রীবৃন্দ।

বইটির বিস্তারিত তথ্য নিম্নলিখিত:

সমমীরণ দত্ত গুপ্ত, ‘ তিস্তা তট রেখা’, প্রকাশক- -শ্রীমতী শর্মিলা কুণ্ডু ও স্বপন কুমার ঘোষ, এন. ই. পাবলিশার্স, 16 মতিলাল মল্লিক লেন, কলকাতা- 35, 15ই ডিসেম্বর, 2000, বিদ্যাসাগর মেলা।

Share this:

Leave a comment