Categories
ABORIGIN ভাষা - বাংলা

বঞ্চিত বৃহত্তর কুচবিহারের কামতাপুরী/রাজবংশী ভাষী সাধারন মানুষ।

কুচবিহারের ইতিহাসে ১৯৪৯ সালের ২৮ শে আগষ্ট দিনটার গুরুত্ব – বঞ্চিত কামতাপুরী/রাজবংশী ভাষী সাধারন মানুষ।

লিখেছেন: কুমার মৃদুল নারায়ণ

আজ কুচবিহার বাসির এক ঐতিহাসিক দিন। আজকের দিনে ১৯৪৯ সালে Coochbehar Merger  স্বাক্ষরিত হয়। এই এগ্রিমেন্টে স্বাক্ষর করেন কুচবিহারের মহারাজা জগদ্দীপেন্দ্র নারায়ণ এবং ভারত সরকারের পক্ষে ভি পি মেনন (Adviser to the government of the India Ministry of states). এই চুক্তি অনুসারে ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের ১২ ই সেপ্টেম্বর কুচবিহারের মহারাজা প্রজা কল্যাণের স্বার্থে ভারত ডোমিনিয়নে অন্তর্ভুক্ত করেন এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে ১লা জানুয়ারি কুচবিহার পশ্চিমবঙ্গের একটি জেলা রূপে রূপান্তরিত হয়, এর ইতিহাস এখনো অজানা।  ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে ৪ঠা মার্চ জলপাইগুড়ি বিভাগের সাথে যুক্ত করা হয়। মহারাজা চুক্তির সময় কুচবিহার বাসির কাছে যে অন্তিম ভাষনে বলেছেন, “We shall always watch with keen interest your moral and material welfare and always pray for your happiness and prosperity”. সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল ১১/০৯ /১৯৪৯ তারিখে এক তারবার্তায় একস্থানে বলেছেন ” I hope therefore that the people of Coochbehar will work with single mindedness and devotion to duty as a united team for their own betterment and to achieve their due place in the political and administrative set up of India”.

কিন্তু আমরা কুচবিহারবাসি, ভারতবাসী হিসেবে গর্বিত এবং ভারতের অখন্ড রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাওয়া সত্ত্বেও Due to place in political and administration setup of India কতটুকু পেয়েছি? বরং চোখের সামনে কুচবিহার রাজবাড়ির জমি ও সম্পদ বেহাত হতে দেখেছি এখানকার গর্ব রাজবাড়ির জমির বেশিরভাগ অংশের নানা নির্মাণকার্য করা হয়েছে পশ্চিমে বাঁধ দিয়ে এর সূচনা হয়েছে এখন তো আবার বাঁধের উপর পাকা রাস্তা করার জন্য রাজবাড়ীর দিকে বাধ আরো সরে এসেছে রাজবাড়ির প্রাঙ্গণের দক্ষিণের দিকে বিস্তীর্ণ অংশে স্টেডিয়াম, ইনডোর স্টেডিয়াম তৈরি করা হয়েছে । এমনকি শৌচাগারও নির্মিত হয়েছে। উত্তরে বাস স্ট্যান্ড,পার্ক আবাসনের বড় বড় অট্টালিকা সারি, আমাদের গর্বের নিদর্শনকে দুই পাশে চেপে ধরেছে। পাসের স্থান দখল করেছে ইভিনিং ও বিটি কলেজ, পলিটেকনিক কলেজ। ঝিলের বিরাট অংশ বুজিয়ে ফেলা হয়েছে।বহু আন্দোলনের ফলে Archeological Survey of India এর দায়িত্ব নেওয়াতে রাজবাড়ীটুকু রক্ষা পেয়েছে। শহর জুড়ে বিভিন্ন দিঘি গুলি  বুজিয়ে ফেলা হচ্ছে। বিভিন্ন হেরিটেজ ভবনগুলি আজ ভগ্নপ্রায় কিছু ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে। মহারাজাদের পরিকল্পিত সুসজ্জিত শহরের আজ হতশ্রী অবস্থা সত্যিই খুবই বেদনাদায়ক।

শিক্ষা দীক্ষায় রাজ আমলের খুবই সুনাম ছিল। রাজআমলে ভিক্টোরিয়া কলেজের সুনাম ছিল। আজ তা রাজনীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সেই সময় ইংরেজি, দর্শন ও সংস্কৃতে এম.এ ও বি.এল পড়া যেত। বহু দিন এম.এ পড়ানো বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি কয়েকটি বিষয়ে  এম.এ পড়ানো হচ্ছে কিন্তু বি.এল একেবারে বন্ধ। আলাদা একটি সংস্কৃত কলেজ ছিল বহুদিন থেকেই তা বন্ধ। উজ্জীবন এর পরিবর্তে কলেজের জমি অন্য কলেজকে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নামকরা শিক্ষকরা এখন আর  এখানে আসেন না, যারা আসেন তারা নিয়মিত থাকেন না।

ক্রিকেটীয় ক্ষেত্রে কুচবিহার কাপকে গুরুত্বহীন করে রাখা হয়েছে। সর্বভারতীয় স্তরে এই প্রতিযোগিতা অত্যন্ত তুচ্ছ ভাবে পরিচালনা করা হয়। মহারাজের দেওয়া আইএফএ শিল্ডেরও একই  অবস্থা।

কুচবিহারের মহারাজার গঠিত অর্থ দিয়ে কুচবিহার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড গঠন করা হয়েছে। তার দিয়ে কি কি উন্নয়ন করেন তা জানা বা দেখার সৌভাগ্য কুচবিহার বাসীর হয়না। দেবত্র ট্রাস্ট বোর্ডের অধীন অনেকগুলি মন্দিরের আজ হতশ্রী অবস্থা। মদনমোহন  ঠাকুরের বিগ্রহ চুরি যাওয়ার পর অন্যান্য বিগ্রহ গুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে কুচবিহার বাসী আজ খুবই চিন্তিত।

জেলা থেকে আজ রাজ ইতিহাস মোছার চক্রান্ত করা হচ্ছে। MJN Hospital থেকে মহারাজার নাম মুছে ফেলে Coochbehar Government Medical College নামকরণ করা হয়েছে। মতিমহল কে আজকে “কল্যাণ ভবন” করা হয়েছে। ল্যান্সডাউন হল, ভিক্টর প্যালেস এর মধ্যে রাজ ঐতিহ্যকে নস্যাৎ করা হচ্ছে। যক্ষ্মারোগের হাসপাতালেও আজ করুন অবস্থা।

কুচবিহারে এখনো শিল্প স্থাপনের সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তা না হওয়ায় দিন দিন বেকার সমস্যা বেড়েই চলছে। আজ দুলক্ষের বেশি কুচবিহার বাসী পরিযায়ী ভারতবর্ষের বিভিন্ন জায়গায় কাজ করছে। কুচবিহার বাসির মধ্যে পরিযায়ী শ্রমিক দিন দিন সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজ শাসনের সুশৃংখল রাজ্যে আজ অশান্তির কালো ছায়া ঘনীভূত হচ্ছে। রাজার তৈরি গ্রন্থাগারে  অনেকগুলি পুথি অযত্নে নষ্ট হয়ে যেতে বসেছে। অথচ উত্তরবঙ্গের স্টেট লাইব্রেরির সঠিক স্ট্যাটাস আজও পাওয়া যায়নি। কুচবিহারের সাহিত্য সভার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যোৎসভার আজ হতদরিদ্র অবস্থা। এখানে অনেক পুথির হদিস নেই অথচ এই দুই প্রতিষ্ঠান কুচবিহারের সাহিত্যচর্চার মূল্যবান নিদর্শনগুলি থাকার কথা। রেকর্ড রুম থেকে রেকর্ড গুলি উদ্ধার করে সংরক্ষণ ও প্রয়োজনে প্রকাশ করলে তা ইতিহাসকে প্রামান্য হতে সাহায্য করত। কিন্তু রেকর্ড রুম থেকে অনেক নথি হাওয়া। অনেকগুলি নথি অন্ধকার ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় পড়ে থাকতে থাকতে জীর্ণ ও পাঠের অযোগ্য হয়ে বসেছে। ঐতিহাসিক ঐতিহ্যবাহী কাউন্সিল হাউস ভেঙে ফেলা হয়েছে। কুচবিহারের নিজস্ব লোকসংস্কৃতির ভান্ডার পূর্ণ হলেও তা চর্চা ও গবেষণার জন্য কোন কেন্দ্র স্থাপিত হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের সংযুক্তিকরণ এর দিনও ডঃ বিধান চন্দ্র রায় অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কিন্তু তা সেগুড়ে বালি।


# Koch-Rajbanshi-Kamtapuri, কুচবিহার মার্জার এগ্রিমেন্ট, Sardar Vallabhai Patel.

View All Postsআপনিও পোস্ট করুনAdvertise your Product or Service
Share this:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

33 Views