প্রফেসর মহেন্দ্রনাথ রায় মহাশয়ের বক্তব্য, রাজবংশী কামতাপুরী মানুষের প্রত্যাশা।

প্রফেসর মহেন্দ্রনাথ রায় (Professor Mahendranath Roy) আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইস চ্যান্সেলর (Alipurduar University, Vice Chancellor) পদে জয়েন করার পর যে যে বিষয় গুলোর উপর উন্নতি করতে চান এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের দরবারে উন্নীত করতে চেয়ে বিশিষ্ট অধ্যাপক, বিশিষ্ট জননেতা তথা সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন তা হল –

১. চা শিল্পের উন্নতি

২. কালচারাল ডেভেলপমেন্ট 

৩. টুরিজম ডেভেলপমেন্ট 

চা শিল্পের উন্নতি (Development in Tea Industry) 

চা শিল্পের উন্নতি হিসাবে প্রথমে তিনি যে কথাটি বলেছেন সেটা হল আলিপুরদুয়ার জেলা অনেকটা অংশ চা বাগানে ভর্তি। গবেষণার মাধ্যমে চা পাতা প্রসেসড করে তার গুনগত মান ও স্বাদ বৃদ্ধি করে বিশ্ব বাজারে জায়গা অধিকার করে নেওয়া। চা পাতায় প্রচুর পরিমানে অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট (Antioxidant) পাওয়া যায়। এই অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট হল এমন একটি যৌগ যা দেহের বিভিন্ন রোগ বহনকারী কোষ গুলোকে বা এক কথায় ক্যান্সার সেল (Cancer cell) গুলোকে ধ্বংস করে। বিভিন্ন খাদ্য উপাদানে অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট থাকে বলে আমাদের শরীরে সহজে ক্যান্সার সেল তৈরী হয় না। প্রফেসর মহেন্দ্রনাথ রায় উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে (North Bengal University) অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট নিয়ে অনেক গবেষনা করেছেন ও ন্যাচার (Nature) পত্রিকায় উনার অনেক গবেষণা মূলক লেখাও রয়েছে। চা এর গুনগত মান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ইনক্লুশন (inclusion complex) পদ্ধতিতে অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট এর পরিমান চা এর মধ্যে বাড়িয়ে সেটাকে আলাদা মাত্রা দেবার কথা তিনি বলেছেন। এই ব্যাপারে তিনি ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, বায়োলজি, ম্যাথম্যাটিক্স সহ সমস্ত বিজ্ঞান বিভাগ গুলোর সহযোগিতা আশা করেছেন। 

কালচারাল ডেভেলপমেন্ট (Cultural Development

প্রফেসর মহেন্দ্রনাথ রায় প্রথম কোচ রাজবংশী যিনি আলিপুরদুয়ার বিশ্ব বিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর হয়েছেন। যেহেতু আলিপুরদুয়ার জেলায় বিভিন্ন জাতি ও উপজাতি বসবাস করে তাই সমস্ত জাতি ও উপজাতির কালচার ও কৃষ্টি তুলে ধরার জন্য একটা সংগ্রহশালা করার কথা ব্যক্ত করেছেন। কোচ রাজবংশী সংস্কৃতি ছাড়াও রাভা, মেচ, সাঁওতাল, বাঙালি, নেপালী সব জাতি বা উপজাতির সাংস্কৃতিক উপাদান সংগ্রহ করে সেই সংগ্রহশালায় রাখা হবে। প্রত্যেক জাতি বা উপজাতির সংস্কৃতি কিভাবে বিশ্বের দরবারে নিয়ে যাওয়া যায় সেটা অবশ্যই প্রাধান্য বিষয় থাকবে। 

টুরিজম ডেভেলপমেন্ট (Tourism Development) 

আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) শহর ও তার পার্শ্ববর্তী জায়গা গুলোতে পর্যটনের রসদ রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সারাবছর ধরে হাজার হাজার পর্যটক এই জায়গা গুলোতে ভ্রমন করতে আসে। পর্যটন শিল্পকে কিভাবে উন্নত করা যায় সেটা নিয়েও  প্রফেসর মহেন্দ্রনাথ রায় মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন পর্যটন শিল্পকে যদি আমরা আরো উন্নত করতে পারি তাহলে শুধু রাজ্য বা দেশ নয় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও এই জায়গায় ভ্রমণ করতে আসবেন পর্যটকরা। এর ফলে এখানে অনেক কর্মসংস্থান বাড়বে এবং অনেকের ব্যবসার সুযোগও বাড়বে। 

তবে আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু একেবারে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় তাই সব বিভাগ এখনো ঠিকঠাক ভাবে চালু হয়নি। করোনার (Corona virus) কারণে অনেক বিভাগ বন্ধ রাখতে হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগের উন্নয়নের ব্যাপারে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের সাথে কথাও হয়েছে। উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অনুমোদন সাপেক্ষেই উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে বলে প্রফেসর রায় জানিয়েছেন। প্রোফেসর রায় সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়াতে বলেছেন যাতে আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভুত উন্নতি হয় ও বিশ্বের দরবারে পৌছাতে পারে। তিনি এও বলেছেন যে ওনার ভাইস চ্যান্সেলর পদে যোগদান করার আগে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় যে খবর বেড়িয়েছিল তার পরিপ্রেক্ষিতে কোচ রাজবংশী সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অনস্বীকার্য। 

Collected / Courtesy: S.Roy

ব্যক্তিগত ভাবে আমিও চাই আলিপুরদুয়ার ইউনিভার্সিটি বিশ্বের দরবারে পৌছাক। তার সাথে কোচ রাজবংশী তথা কামতাপুরি মানুষের কামতাপুরী ভাষা আর রাজবংশী ভাষা (একই ভাষার দুই নাম) নিয়ে যে চলতি দ্বন্দ্ব সেটা দূর করে এক নামে ভাষার নামকরণ করে সেটাই ভাষার কোর্স হিসেবে চালু করুক আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখানে মাননীয় বংশীবদন বাবু মারফত বর্তমান রাজ্য সরকার চাইবে পন্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত আলিপুরদুয়ার বিশ্ব বিদ্যালয়েও রাজবংশী ভাষা কোর্স চালু করার এবং শুধুমাত্র নিজের মতের অগ্রাধিকার দেওয়ার। কিন্তু কখনোই এগিয়ে আসবে না বা আসছেও না যাতে দুই নাম এক করে এক নামে ভাষা অ্যাকাডেমি করার। এটা কোনো বিচক্ষণতার পরিচয় নয়। আমরা আশা রাখি  বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভাইস চেয়ারম্যান এই বিষয়টাকে খুব গভীর ভাবে চিন্তা করবেন। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে কোনো রকম চাপের কাছে মাথা নোয়াবেন না যদি এসেও থাকে ভবিষ্যতে কখনো।

 কামতার ইতিহাস

কামতাপুরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়গুলাও যেন আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের সিলেবাসে থাকে। তার জন্য যদি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এর পক্ষ থেকে দাবী পেশ করতে হয় আশাকরি কোচ রাজবংশী কামতাপুরী সমস্ত সামাজিক সংগঠন এগিয়ে আসবে। দেশ স্বাধীন হওয়ার ৭০ বছর পরেও কোচ কামতার ইতিহাস এখানকার ভুমিপুত্র এবং অন্যান্য মানুষ জানতে পারিনি শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কলকাতা কেন্দ্রীক শিক্ষা নীতির জন্য। অর্থনৈতিক ভাবে সমাজের জন্য যদি কিছু করতে হয় তাহলে এগ্রিকালচার বা ডেয়ারী সেক্টরে বিশেষ একটা প্রোডাক্ট (যার কাচামাল পার্শ্ববর্তী গ্রাম এলাকা থেকে সংগ্রহীত হবে) কে বাজারজাত করে সেটার মাধ্যমে প্রাথমিক ভাবে শুরু করা যেতে পারে। তারপর ডিমান্ড ও মারকেট অনুযায়ী আরো বিভিন্ন প্রোডাক্ট এর উপর নজর দেওয়া যেতে পারে। 


©VSarkar

Share this:

1 thought on “প্রফেসর মহেন্দ্রনাথ রায় মহাশয়ের বক্তব্য, রাজবংশী কামতাপুরী মানুষের প্রত্যাশা।”

Leave a comment

Enable notifications on latest Posts & updates? Yes >Go to Home Page or Non Amp version Page and \"Allow\"