কুচবিহারের মহারানীদের কথা

লিখেছেন: কুমার মৃদুল নারায়ণ

বিশ্বসিংহ (Maharaja Viswa Singha) প্রতিষ্ঠিত কুচবিহার রাজবংশের প্রজাবৎসল  মহারাজারা রাজ্যের মঙ্গল এবং উন্নয়নে যেমন নিবেদিত ছিলেন, রাজমহিষীরাও কেবল  অন্তঃপুরের মধ্যেই সীমিত না থেকে রাজশাসনে মহারাজাদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করতেন। অনেকে আবার  যুদ্ধক্ষেত্রে রাজার সঙ্গে অংশগ্রহণ করতেন। বুদ্ধিমতী মহারানীরা রাজকার্য পরিচালনায় মহারাজাদের নানানভাবে পরামর্শ দিতেন। শিক্ষা-সাহিত্য, আধুনিকতা সংস্কৃতি, কুসংস্কারমুক্ত মন সৃষ্টি, মাদক দ্রব্য বর্জন সর্বোপরি সমাজ সংস্কারে মহারাজাদের পাশাপাশি রাজমহিষীদের অবদান  অবিস্মরনীয় হয়ে থাকবে। তাদের দূরদর্শীতায় রাজ্যে একাধিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড হয়।

মহারানী বৃন্দেশ্বরী দেবী (Maharani Brindeshwari Devi)

কুচবিহাররাজ শিবেন্দ্র নারায়ণের (Maharaja Shivendra Narayan)  রাজমহিষী  বৃন্দেশ্বরী দেবী জন্মগ্রহণ করেন সম্ভবত ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে। অসমের গোয়ালপাড়া জেলার পর্বত জোয়ারের জমিদার রাজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরীর (Jamindar Rajendra Narayan Chaudhary) কন্যা। মহারাজা শিবেন্দ্র নারায়ণের সঙ্গে ফাল্গুন মাসের দোল পূর্ণিমায় তার বিয়ে হয়। একই দিনে চাপগড়ের শাসক  বজ্রধরের (Jamindar Bajradhar) কন্যা কামেশ্বরী দেবীর সাথে ও মহারাজের বিয়ে হয়। কামেশ্বরী দেবী, শ্রী শ্রী ডাঙ্গর আই  দেবতী (Sri Sri Dangor Aai Deoti) এবং বৃন্দেশ্বরী দেবী “শ্রী শ্রী বড় আই দেবতী,” (Sri Sri Bara Aai Deoti) অভিধায় অভিহিত হন। বিয়ে বেশ জাঁকজমক সহকারে হয়। রাজ্যের  দেওয়ান, ঈশানচন্দ্র মুস্তাফি, (Ishanchandra Mustafi) শিবপ্রসাদ বক্সী  (Shivprasad Baxi) এবং জয়নাথ মুন্সি (Jaynath Munsi) বিয়ের আয়োজনের দায়িত্বে ছিলেন।

মহারাজা শিবেন্দ্র নারায়ণ এবং মহারানী বৃন্দেশ্বরী দেবীর সন্তানাদি না থাকায় মহারাজা তার ভাই ব্রজেন্দ্র নারায়ণের (Brajendra Narayan) চতুর্থ ও কনিষ্ঠ পুত্র কুমার চন্দেন্দ্র নারায়ণকে (Chandendra Narayan) দত্তক হিসেবে গ্রহণ করেন। এই গৃহীত দত্তক পুত্রের নাম রাখা হয় নরেন্দ্র নারায়ণ (Narendra Narayan)।

বৃন্দেশ্বরী দেবীর শিক্ষা, সাহিত্য, ইতিহাসের প্রতি প্রবল উৎসাহ ছিল। বিদ্যুৎসাহী মহারাজা শিবেন্দ্র নারায়ণ সাহিত্যের বিষয়ে মহারানীকে উৎসাহ যুগিয়েছিলেন। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থটির নাম বেহারোদন্ত” (Beharodanta)। গ্রন্থটির রচনাকাল উনবিংশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে। কুচবিহার রাজদরবারে সাহিত্য চর্চার ক্ষেত্রে এই গ্রন্থটির ভূমিকা অনস্বীকার্য। অলংকার, উপমা ব্যবহারেও তিনি মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন এই গ্রন্থে। এই গ্রন্থটি কুচবিহারের প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ, প্রথম মুদ্রিত ইতিহাস, মহিলা কবি  রচিত প্রথম মুদ্রিত কাব্যগ্রন্থ, বেহারোদন্ত গ্রন্থটি মহিলা কবি রচিত ভারতবর্ষের প্রথম মুদ্রিত ইতিহাস (First Female Poet of India)।

কুচবিহার রাজবংশের ইতিহাস রচনার উদ্দেশ্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত কাব্যগ্রন্থটিতে মহারাজা শিবেন্দ্র নারায়ণ, মহারাজা নরেন্দ্রনারায়নের কথা এবং সর্বোপরি নিজের ব্যক্তিগত জীবনী লিপিবদ্ধ করেছেন। তবুও গ্রন্থটিতে কুচবিহারের নানা রীতিনীতি, আচার-অনুষ্ঠান, রাজ্যভিষেক এর বিবরণ থাকায় তা কৌতূহল সৃষ্টি করে। ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে কুচবিহার সাহিত্য সভা, নবপর্যায় “পরিচারিকা” (Paricharika Patrika) পত্রিকার সম্পাদক, প্রিন্স ভিক্টর নিত্যেন্দ্র  নারায়ণের (Prince Victor Nityendra Narayan) স্ত্রী নিরুপমা দেবীর (Nirupama Devi) সম্পাদনায় এই গ্রন্থটির পূর্ণ মুদ্রণ  হয়।  কুচবিহার রাজ্যে শিক্ষা এবং সংস্কৃতি, সংস্কারের ক্ষেত্রে যে সৃজনশীলতা লক্ষ্য করা গেছে তার অন্যতম পথপ্রদর্শক ছিলেন মহারানী বৃন্দেশ্বরী দেবী।

মাত্র ৪৫ বছর বয়সে ১৮৭৬খ্রিস্টাব্দে তিনি অমৃতলোকে যাত্রা করেন।

মহারানী সুনীতি দেবী (Maharani Sunity Devi)

আধুনিক কুচবিহারের রূপকার মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণ (Maharaja Nripendra Narayan Bhupbahadur) ভূপবাহাদুরের পত্নী ও ব্রহ্মানন্দ কেশবচন্দ্র সেনের (Brahmananda Keshav Chandra Sen) কন্যা সুনীতি দেবীর জন্ম হয় ১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দের ৩০শে সেপ্টেম্বর। তার মায়ের নাম ছিল জগমোহিনী দেবী (Jagamohini Devi)। তার প্রাথমিক শিক্ষা গৃহেই শুরু হয়। এরপর তিনি প্রথমে  পিতার ভারত আশ্রম এবং পরে বেথুন কলেজে পাঠ গ্রহণ করেন। ইতিহাস বিষয়ে তাঁর আগ্রহ ছিল সর্বাধিক। মায়ের কাছ থেকেও তিনি সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা, প্রতিবেশীদের প্রতি দয়া ও অনুকম্পা এবং গরিবদের প্রতি সহানুভূতিশীলতার শিক্ষা গ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই বাংলা এবং ইংরেজি ভাষায় পড়াশোনা করে মাতৃভাষার সঙ্গে সঙ্গে ইংরেজি ভাষাতেও পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন। আধুনিক ভাবনায় বাড়ির পরিবেশে বেড়ে ওঠায় তার মধ্যে ধর্মীয়  উদারতাও লক্ষ্য করা গেছে। তার চরিত্রে নিষ্ঠা, পবিত্রতা, দৃঢ়তা, প্রগতিশীল মনোভাব, ইতিহাস সচেতনতা, ন্যায় পরায়ণ এর সমাবেশ ঘটেছে।

Sunity Devi

কুচবিহারের রূপকার মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণ ভূপ বাহাদুর এর সঙ্গে সুনীতি দেবীর বিয়ে হয় ১৮৭৮খ্রিস্টাব্দের ৬ই মার্চ। অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে হওয়ায় বিয়ের পর  (Act lll of 1872, Male Age-18yrs., Female Age-14yrs.) মহারাজা উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে চলে যান আর মহারানী কলকাতায় চলে আসেন। উল্লেখ্য এই আইন কে মান্যতা দিয়ে ১৮৮০খ্রিস্টাব্দের ২০ অক্টোবর আবার একটি বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছিল। তার আগমনে কুচবিহার রাজ্যে আধুনিক ভাবনার নতুন করে উন্মেষ হয়। এর প্রভাব পড়ে শিল্প, সাহিত্য এবং সংস্কৃতি চর্চায়। একটি দেশীয় রাজ্যের মহারানী হিসেবে যে সমস্ত সদগুণের অধিকারী হওয়া প্রয়োজন, বস্তুত সুনীতি দেবী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে সেগুলি ছোটবেলা থেকেই গড়ে উঠেছিল পিতৃগৃহে।

সংস্কারমুক্ত মহারানী সুনীতি দেবীর উদার মানসিকতা শুধুমাত্র নারী-স্বাধীনতা, নারী জাগরন, নারী মুক্তি আন্দোলনের সহায়ক হয়েছিল তাই নয়, অন্তপুরের মহিলাদের আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে সমাজে তাদের স্থান তৈরি করে নিতে সাহায্য করেছিল। ভারতীয় রাজ্যগুলির রাজা-মহারাজারা এ থেকে শিক্ষা নিয়ে শুধুমাত্র বহুবিবাহ প্রথা বা তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রথা নিবারণ এই নয়, এমনকি বিবাহ ক্ষেত্রে জাতিভেদ প্রথা থেকেও সংস্কারমুক্ত হয়ে ছিলেন। সামাজিক ক্ষেত্রেও এর প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী।

মহারানী প্রজাদের মধ্যে স্ত্রী শিক্ষার বিস্তার, মাদকদ্রব্য নিবারণ, জনসেবা ও তাদের দৈনন্দিন জীবনের কুসংস্কার দূরীকরণে বহুবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। শিক্ষা বিস্তারের উদ্দেশ্যে তিনি কলকাতার যশস্বী অধ্যাপক, শিক্ষকদের কুচবিহারের ভিক্টোরিয়া কলেজ (বর্তমানে এ.বি.এন. শীল কলেজ ) এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়ে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছিলেন। শুধু শিক্ষা-দীক্ষার ক্ষেত্রেই নয় কুচবিহার রাজ্যের নগরোন্নয়ন, নতুন রাজপ্রাসাদ ,অফিস কাছারি, নতুন নতুন রাস্তাঘাট, দেবালয় নির্মাণ, ভূমি সংস্কার, শাসন সংস্কার, গ্রামোন্নয়ন, সকল ক্ষেত্রেই তার উজ্জ্বল প্রতিভা প্রকাশ পেয়েছিল।

১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে মহারাজার রাজ্য শাসন নীতি গ্রহণের সাথে সাথেই রাজ্যের শাসন প্রণালীতে দ্রুত পরিবর্তন ঘটতে থাকে। মহারাজের সঙ্গিনী হিসেবে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য বলাই যায়। রাজ্যে নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে পূর্বের রতি দেববক্সীর স্কুলকে ১৮৮১খ্রিস্টাব্দে সুনীতি কলেজে (বর্তমানে সুনীতি একাডেমি/ Sunity Academy ) রূপান্তরিত করেন। এছাড়াও ভার্নাকুলার বিদ্যালয়, নর্মাল স্কুল, নৈশ বিদ্যালয় স্থাপন, নববিধান ব্রাহ্ম মন্দির নির্মাণ, কেশব আশ্রম, সুনীতি টেরাস, মহারানী ভিক্টোরিয়ার রাজত্বের জুবলিবর্ষ  ভিক্টোরিয়া কলেজ স্থাপন, ইউরোপিয়ান মহিলাদের জন্য ইউরেশিয়ান গার্লস স্কুল স্থাপন, পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও শিক্ষা বিস্তারের জোয়ার এসেছিল মহারানীর প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ প্রভাবেই ।

১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে মহারানী সুনীতি দেবী প্রথম ইংল্যান্ডে যান ইংল্যান্ডের মহারানী ভিক্টোরিয়ার জুবলি  উৎসবে যোগদান করতে, সেই সময় তাঁর সঙ্গী ছিল মহারাজা এবং পুত্রগণ। মহারানী ভিক্টোরিয়া সুনীতি দেবীকে খুবই ভালবাসতেন। এমনকি তাঁর পুত্র রাজকুমার  নিত্যেন্দ্র নারায়ণ এর ধর্মমতা হয়েছিলেন মহারানী ভিক্টোরিয়া। তাই তার নাম হয়েছিল প্রিন্স ভিক্টর নিত্যেন্দ্র  নারায়ণ। ১৮৮৮খ্রিস্টাব্দে তাকে ইংল্যান্ডেশরী Imperial order of the Crown of India. উপাধিতে ভূষিত করেন। ভারতীয় নারীদের মধ্যে সুনীতি দেবী প্রথম এরকম সম্মান লাভ করেন।

সাহিত্য অনুরাগী সুনীতি দেবী কুচবিহারে বিভিন্ন উৎসব, কীর্তন, কথকতা ও বক্তৃতার ব্যবস্থা করতেন এবং মেয়েদের নিয়ে তিনি আনন্দমেলা নামে ল্যান্সডাউন হলে  একটি অনুষ্ঠান করতেন। রাজবাড়ীতে গৃহবধূ, মহিলা, অবিবাহিত মেয়েদের বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতেন। মেয়েদের প্রতিভার বিকাশ, সাংস্কৃতিক মানসিক বিকাশ বিষয়ে তিনি বিশেষ আগ্রহী ছিলেন। ঠাকুর পরিবারের (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ) সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল। এছাড়াও নবজাগরণের অগ্রদূত গুরুসদয় দত্ত (Gurusaday Dutta, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (Haraprasad Shastry), শিবনাথ শাস্ত্রী (Shivnath Sastry), জগদীশচন্দ্র বসু (Jagadish Chandra Bose) ও তার পত্নীর সঙ্গে তাঁর ছিল আত্মীয় সম্পর্ক।

সাহিত্য সৃষ্টিতেও সুনীতি দেবী পারদর্শীতা দেখিয়ে ছিলেন। বাংলা, সংস্কৃত, ইংরেজি ভাষায় তিনি বহু গ্রন্থ রচনা করেন। ১৯২১ এ প্রকাশিত হয় The Autobiography of an Indian Princess, এছাড়াও Indian Fairy Tales, The Bengal Dacoits and Tigers, The Ideal Indian Women ইংরেজি গ্রন্থগুলি বিখ্যাত। বাংলা কবিতার মধ্যে অমৃত বিন্দু, কথকতার গান, গল্প-সংকলনের মধ্যে ঝড়ের দোলা, সাহানা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

মহারানী সুনীতি দেবীর চার পুত্র এবং তিন কন্যা। রাজ রাজেন্দ্রনারায়ণ (Raj Rajendra Naryan), জিতেন্দ্র নারায়ণ (Jitendra Narayan), ভিক্টর নিত্যেন্দ্র  নারায়ণ (Victor Nityendra Narayan), হিতেন্দ্রনারায়ণ (Hitendra Narayan), সুকৃতি দেবী (Sukriti Devi), সুধীরা দেবী (Sudhira Devi), প্রতিভা  দেবী (Prativa Devi)। মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণের মৃত্যুর পর কুচবিহারে তিনি বিশেষ একটা থাকতেন না। জীবনের শেষ দুটি বছর তিনি প্রিন্স ভিক্টর নিত্যেন্দ্র নারায়ণ এর সাথে থাকার জন্য লন্ডনে চলে যান।

কলকাতার লাউড স্ট্রিটের বাড়িতেও তিনি কিছুদিন বাস করেন। এই সময় তার শরীর ভালো যাচ্ছিল না। বায়ু পরিবর্তনের জন্য তিনি রাঁচিতে যান। রাঁচিতে ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের  ১০ নভেম্বর গভীর রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এবং সেখানেই তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। মুখাগ্নি করেন নৃপেন্দ্র নারায়ণ এর বড় ভাই যতীন্দ্রনাথের (Jatindranath) ছেলে কুমার প্রমোদেন্দ্রনারায়ণ (Kumar Promodendra Narayan)। ২১নভেম্বর যথাযোগ্য মর্যাদায় কুচবিহারের হিন্দু মতে তার শ্রাদ্ধ-শান্তি  করা হয়।

নিরুপমা দেবী (Nirupama Devi)

কুচবিহার রাজ্যের মহারানী না হয়েও নিরুপমা দেবী তাঁর কাজের মধ্য দিয়েই মহারানীদের মতই সমুজ্জ্বল ও সমাদৃত ছিলেন। মধ্যপ্রদেশের হোসাঙ্গাবাদে (কর্মসূত্রে)  প্রসিদ্ধ আইনজীবী মতিলাল গুপ্তের (Baristar Matilal Gupta) মেয়ে নিরুপমা দেবীর জন্ম হয় ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে ২৩শে মে। মতিলাল গুপ্তের আদি বাড়ি কলকাতা। ছোটবেলা থেকেই সাহিত্য অনুরাগী নিরুপমা দেবীর সাহিত্য সৃষ্টির একটা ঝোক ছিল। কুচবিহার রাজপরিবারের ( ভিক্টর নিত্যেন্দ্র নারায়ণের মহিষী ) বধূ (১৯১১খ্রিস্টাব্দে ) হয়ে এসে তিনি সাহিত্যচর্চার  পরিমণ্ডল গড়ে তোলেন। মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণের রাজত্বকালে কুচবিহারের যে আধুনিকতার বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল, তা পরবর্তীকালেও অব্যাহত থাকে। সাহিত্যসেবী  নিরুপমা দেবীর ভূমিকাও ছিল অনস্বীকার্য।

Nirupama Devi and Victor Nityendra Narayan

১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে নিরুপমা দেবী সাহিত্য বিষয়ক পত্রিকা “পরিচারিকা “সম্পাদনা করেন। পত্রিকাটি ছাপা হয় কুচবিহার রাজ্য ছাপাখানায়। গল্প-প্রবন্ধ, কবিতা, উপন্যাস, নাটক, সংগীত বিষয়ক রচনা, ভ্রমণ কাহিনী ও ইতিহাস আলোচনায় “পরিচারিকা” বৈচিত্রের পরিচয় দিয়েছিল। এছাড়াও তিনি দেবী ধুপ, গোধূলি, শেষের কবিতা প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। প্রবন্ধ রচনা, সংগীত রচনায়ও নিরুপমা দেবী তার মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন।

নিরুপমা দেবী এবং ভিক্টর নিত্যেন্দ্র নারায়ণের দুটি পুত্র সন্তান হয়। নিধিন্দ্র নারায়ণ (নিধি) ও গৌতম নারায়ণ (Nidhindra Narayan and Gautam Narayan)। বড় ছেলে নিধি কলকাতার স্কুলে পড়তেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় মাত্র ১১বছর বয়সেই দুরারোগ্য ব্যাধিতে নিধি মারা যান। ছোট ছেলে গৌতমনারায়ণ কে অল্প বয়সে লেখাপড়া শিখতে ইংল্যান্ডে  পাঠিয়ে দেওয়া হয়।  কুচবিহার রাজপরিবারে নিরুপমা দেবীর বিবাহ খুব সুখের হয়নি। অল্প সময়ের মধ্যে তিনি রাজপরিবার ত্যাগ করে প্রথমে পিতার কাছে, পরে দিদির কাছে চলে যান এবং পরবর্তীতে অর্থনীতির ছাত্র শিশিরকুমার সেনের (Shishir Kumar Sen) সঙ্গে তার বিবাহ হয়। ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দের ২৭শে সেপ্টেম্বর নদীয়া জেলার সাহেবনগরে তার মৃত্যু হয়।

to be continued…….

Share this:

Leave a comment

Enable notifications on latest Posts & updates? Yes >Go to Home Page or Non Amp version Page and \"Allow\"