উতজাস আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্ব মানী কৃষ্ণ কান্ত রায় মহাশয়।

বামফ্রন্ট আমলে বা তার আগেও পশ্চিমবঙ্গে, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে সংবিধান স্বীকৃত ১০০ পয়েন্ট রোস্টার মেনে তফসিলি জাতি ও উপজাতি দের (SC and ST) চাকরীতে নিয়োগ হত না। বিভিন্ন পোস্টে জেনারেল ক্যান্ডিডেট দের নিয়োগ করা হত সংবিধান কে অগ্রাহ্য করে। 

উত্তরবঙ্গের মানুষের প্রতি এই বন্চনার বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম আন্দোলন সংগঠিত হয় উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় জেলায় যার বেশীরভাগ নেতৃত্বের মধ্যে ছিল কামতাপুরী কোচ রাজবংশী জনগোষ্ঠীর মানুষেরা। বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের মধ্যে অন্যতম ছিলেন রায়গন্জের কৃষ্ণ কান্ত রায় মহাশয় (Krishna Kanta Roy)। আন্দোলনটি উতজাস (Utjas movement) আন্দোলন নামে পরিচিত, যার পুরো নাম উত্তরবঙ্গ তফসিলি জাতি ও আদিবাসী সংগঠন (Uttarbanga Taphasili Jati o Adibasi Sangathan)। 

এই আন্দোলনের দরুন উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন তফসিলি জাতি ও আদিবাসী মানুষেরা তাদের সাংবিধানিক অধিকার আদায়ের জন্য জেলায় জেলায় কর্মসূচি গ্রহন করে। বিভিন্ন জায়গায় জনসভা, অবরোধ, ডেপুটেশন, থানা ঘেরাও ইত্যাদি কর্মসূচি গৃহীত হয়েছিল। কুচবিহারের তুফানগঞ্জে থানা ঘেরাও কর্মসূচি চলাকালীন একজন শহীদ হন, যাঁর নাম স্বর্গীয় নরেন দাস। ওনার স্মৃতিসৌধ এখনো তুফানগঞ্জ শহরে রয়েছে। 

উতজাস আন্দোলন ও কৃষ্ণ কান্ত রায়

এই সাড়া জাগানো আন্দোলনের ফলে কলিকাতা পরিচালিত তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার ১০০ পয়েন্ট রোস্টার মেনে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করতে বাধ্য হয়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও নিয়োগের ক্ষেত্রে ১০০ পয়েন্ট রোস্টার মেনে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। মানী কৃষ্ণ কান্ত রায় এই উতজাস আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন। ওনার বাড়ি উত্তর দিনাজপুর জেলার হেমতাবাদ ব্লকের গিয়াসিল গ্রামে।  ব্যক্তিগত জীবনে উনি প্রাইমারী টিচার্স ট্রেনিং কলেজের প্রিন্সিপাল ছিলেন। ওনার সহধর্মিনী শ্রীমতি রন্জনা রায়ও উতজাস আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। গত ৩ জুন কিডনি সমস্যা জনিত কারনে  কৃষ্ণ কান্ত বাবু রায়গন্জ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় উনি কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে ৭ জুন, সোমবার রাতে ইহলোক ত্যাগ করেন। কৃষ্ণ কান্ত বাবুর পরলোক গমনে কামতাপুর বাসী এক নক্ষত্র কে হারাল। 

Share this:

Leave a comment

Enable notifications on latest Posts & updates? Yes >Go to Home Page or Non Amp version Page and \"Allow\"