কুচবিহার (কামতাপুর) রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা মহারাজা বিশ্ব সিংহ।

কুচবিহার (কামতাপুর)   রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা

                -“মহারাজা বিশ্বসিংয়ের জন্মদিনে সমগ্র কুচবিহার তথা উত্তরবঙ্গ এবং  উত্তর পূর্ব ভারতের  সকলকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা ও মহাবিষুব এবং চৈত্র সংক্রান্তি এবং  শুভ বিষুয়া পরবের হিয়াভরা সুবাঞ্ছা। সগায় ভাল থাকেন। –

কুমার মৃদুল নারায়ণ, সহ সম্পাদক, দা কুচবিহার রয়েল ফ্যামিলি সাকসেসর্স ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট।

মহারাজা বিশ্ব সিংহ (Maharaja Biswa Singha)

(১৫১৫-১৫৩৩)

প্রাচীন “মানসার” নামক গ্রন্থে বর্ণিত নয়প্রকার রাজার মধ্যে “মন্ডলেশ” একপ্রকার রাজা। এককথায় মন্ডল শব্দের অর্থ রাজা। মনুসংহিতায় সপ্তম অধ্যায়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজা এবং সামন্তকে ‘মন্ডল’ বলা হইয়াছে। রংপুরের অন্তর্গত বর্ধনকোট রাজবংশের পূর্বপুরুষ আয্যাবর মন্ডল, হরিদাস মন্ডল এর প্রায় সমসাময়িক ছিলেন। দরং এর সমস্ত বংশাবলিতে উল্লেখ আছে যে হরিদাস মণ্ডল এর ব্যক্তিগত সম্পত্তি ছিল এবং তিনি তাহাতে কৃষিকর্ম করিতেন। হালুয়া, টারাই এবং হাজরা শ্রেণীর  ভৃত্যগনের  দ্বারা তাদের এই সমস্ত কার্যক্রম নির্বাহিত হইত। পরবর্তীতে হরিদাস এবং রাজকন্যা হীরার শুভ পরিণয় সম্পন্ন হয়।

হীরার গর্ভে বিশু জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন (দরং বংশাবলি তে উল্লেখ আছে বিশু মহাদেবের ঔরসজাত এবং সমসাময়িক আকবরনামায় (Akbarnama) বিশ্ব সিংহকে  মহাদেবের বরপুত্র বলা হইয়াছে ) প্রথম “বিহুর” (প্রথম বিহু — মহাবিষুব ) দিনে জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন বলিয়া তার নামকরণ “বিশু” হইয়াছিল (খান আমাতুল্লাহ খান চৌধুরীর কোচবিহারের ইতিহাস )। সিংহাসন আরোহণের সময় বিশু “কামতেশ্বর” উপাধি গ্রহণ করেন এবং অভিষেককালে প্রাচীন রীতি অনুসারে ব্রাহ্মণগণ তাহাকে রাজোচিত ” বিশ্বসিংহ ” (Biswa Singha)  উপাধি প্রদান করিলেন।

From Darang Rajbanshabali

চন্দন এর মৃত্যুর পর বিশ্বসিংহ  ১৫১৫ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আসীন হন,  মতান্তরে তিনিই প্রথম রাজা। কোচ রাজাদের মধ্যে বিশ্ব সিংহ প্রথম “কামতেশ্বর” (Kamateshwar) উপাধি ধারণ করে কামতা রাজ্যের শাসনভার গ্রহণ করেন। তিনি রাজধানী হিঙ্গুলাবাসে (Hingualabas) স্থানান্তরিত করেন। তিনি সৌমার দেশ  বিজনি, বিজয়পুর, জয়  করেন। ভুটানের রাজা (Bhutan King) তাকে কর ও  উপঢৌকন দিতে স্বীকৃত  হন। গৌড়ের কিছু অংশ তিনি দখল করেছিলেন। ষোড়শ শতাব্দীর প্রারম্ভে বিশ্ব সিংয়ের রাজ্যভিষেককালীন তার ভাই শীর্ষ সিংহ মাথায় ছত্র ধারণ করলে তিনি রায়কত  বা দূর্গাধিপতি (cheif of Fort) উপাধি প্রাপ্ত হন। এই শিষ্যসিংহ বর্তমান জলপাইগুড়ি শহরের বক্ষে বৈকন্ঠপুর এর রায়কত বংশের সূচনা করেন। বিশ্ব সিংহ তার পুত্র নরনারায়ণ ও শুক্লধজকে শিক্ষার জন্য বারানসী পাঠিয়েছিলেন। তারা সংস্কৃত, ব্যাকরণ, সাহিত্য, জ্যোতিষ, স্মৃতি ও পুরাণে ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। বিশ্ব সিংহ ছিলেন শিবদুর্গার একান্ত উপাসক।

বিশ্ব সিংহ রাজ্যের শাসন ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য কর্মচারীগণদের মধ্যে ২০ জনের উপরে থাকবেন “ঠাকুরিয়া”। ১০০ জনের উপরে থাকবেন “শইকীয়া”। ১০০০ জনের উপরে ব্যক্তি “হাজারিয়া”। ৩০০০ উপর অধিপত্যকারীকে “ওমরা” এবং ৬৬০০  জনের উপর ব্যক্তিকে “নবাব” উপাধি প্রদান করেন। তিনি রাজ্যের প্রজাদের গণনার ব্যবস্থা করেন। তিনি একজন শক্তিশালী যোদ্ধা এবং সফলকাম বিজেতা হলেও তথাপি তিনি ছিলেন কর্তব্যপরায়ণ এবং ধর্মপ্রাণ। শিব দুর্গার উপাসক হলেও তিনি বৈষ্ণবদের সম্মান করতেন। তিনি পুরোহিতদের এবং জ্যোতিষীদের ভিক্ষা দিতেন। তিনি গরীব এবং দূরদেশ থেকে আসা পর্যটকদের সাহায্য করতেন। সাফল্যের সঙ্গে বহুদিন  রাজত্ব করার পর তিনি এই ধরাধাম ত্যাগ করার  জন্য গভীরভাবে ধ্যানমগ্ন হলেন পর্যটকদের সাহায্য করতেন। সাফল্যের সঙ্গে বহুদিন  রাজত্ব করার পর তিনি এই ধরাধাম ত্যাগ করার  জন্য গভীরভাবে ধ্যানমগ্ন হলেন। 

Share this:

Leave a comment

Enable notifications on latest Posts & updates? Yes >Go to Home Page or Non Amp version Page and \"Allow\"