কুচবিহার রাজবংশের বিষহরি পূজা। Bishahari Puja Coochbehar Royal Family

রাজবংশের বিষহরি পূজা – মদনমোহন বাড়ি, কুচবিহার

Mridul Narayan
Kumar MMridul Narayan

আজ (১৭ই আগষ্ট ২০২২) শ্রাবণের  সংক্রান্তিতে কুচবিহার মদনমোহন বাড়িতে  কাঠমীয়া মন্দিরে শুরু হল কুচবিহার রাজবংশের (Coochbehar Royal Family) পরম্পরাগত ভাবে ২০০শত বছরের প্রাচীন বিষহরি পূজা (Bishahari Puja)। একসময় এই বিষহরি পূজা হতো কুচবিহারের ডাঙ্গরআই মন্দির (Dangor Ai temple) বা রাজমাতা মন্দিরে (Rajmata temple), কিন্তু বর্তমানে এই পূজা হয়  মদনমোহন বাড়িতে (Madanmohan temple)। কুচবিহারের রাজ ঐতিহ্য (Coochbehar Royal Heritage) এবং পরম্পরায় মনসা দেবী (Manasha Devi) এখানে বিষহরি রূপে পূজিত হন। প্রায় দুশো বছর পুরনো বিষহরি পুজোর প্রচলন আজও অমলিন। রাজ ঐতিহ্য বজায় রেখে আজও মদনমোহন বাড়িতে তিনদিন ধরে চলে বিষহরি পূজা এবং সঙ্গে  বিষহরি পালাগান। এখানে মা বিষহরির মাটির প্রতিমা তৈরি হয় না। এখানে শোলার বিষহরি প্রতিমা তৈরি হয়।

শ্রাবণ মাসের শেষে সংক্রান্তির দিন বিষহরির ঘট বসিয়ে শুরু হয়ে যায় পূজা। এই পূজায় যেমন পায়রা বলির নিয়ম আছে, তেমনি  আটটি হাঁসের ডিমও প্রয়োজন আছে। তিনদিনের  এই পূজার শেষ দিন  হয় চাঁদ সওদাগরের পূজা। পূজার শেষ দিনে রাজপুরোহিত যজ্ঞ করে পূজা শেষ করেন। তবে চাঁদ সওদাগরের পূজা না হলে অসমাপ্ত থেকে যায় কুচবিহার রাজবংশের পূজা। বিষহরি পূজা উপলক্ষে তিনদিন ধরে মদনমোহন মন্দির চত্বরে  পালাগান চলবে। পালাগান যাঁরা করবেন তারা ইতোমধ্যে চলে এসেছেন বা আসবেন। মদনমোহন মন্দির তৈরি হওয়ার আগে এই পূজা ডাঙ্গর আই মন্দিরে হত। 

এই পূজাতে মন্দিরের মালি অমর কুমার দেব চাঁদ সওদাগর রূপে বংশ পরম্পরায় বাঁ হাতে দেবী বিষহরি বা মনসাকে পূজা দিয়ে আসছেন। রাজ আমল থেকে এই প্রথা চলে আসছে। ভেটাগুড়ির শোলা শিল্পী ধীরেন্দ্র মালাকার বংশপরম্পরায় মন্ডুষ (পাটচিত্র) তৈরি করে আসছেন। ১৮ ফুট সেই মন্ডুষটিতে চাঁদ সওদাগরের কাহিনী, বেহুলা-লক্ষ্মীন্দরের কাহিনী  তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি তিনদিন ধরে পূজাতে চলবে ঐতিহ্যবাহী বিষহরি পালা গানের আসর। হারিয়ে যাওয়া বা লুপ্তপ্রায় এই গানের আসরে প্রচুর লোক সমাগম হয়।

#বিষহরি পূজার সমায় “গুয়া পান” এর গান

Leave a Comment

Your email address will not be published.